মেয়রের আবাসন কর্মসূচীর ১০০ দিন
ড্রাম প্রতিবেদনঃ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ধনীদের উপর কর আরোপের লক্ষ্যে শ্রমিক, ডিএসএ, ভাড়াটিয়া ও অভিবাসী সংগঠনগুলো মামদানি প্রশাসনের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ঐতিহাসিক ক্রয়ক্ষমতা সংকটের মাঝে প্রগতিশীল সংগঠনগুলো ‘লাভের জন্য নয়, জনগণের জন্য মেয়র’—কে স্বাগত জানিয়েছে। উল্লেখ্য, শ্রমিক ইউনিয়ন, ভাড়াটিয়া সংগঠন এবং অভিবাসী গোষ্ঠীগুলো, যারা জোহরান মামদানিকে ঐতিহাসিকভাবে মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করতে সাহায্য করেছে। তারা নতুন প্রশাসনের অধীনে শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে ১০০ দিনের কাজ উদযাপন করেছে। পিপলস মেজরিটি অ্যালায়েন্স নামের একটি জোটের অংশ হিসেবে, শ্রমজীবী ও অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীরা ধনকুবেরদের খরচ করা কোটি কোটি ডলারের বাধাকে ডিঙিয়ে মেয়র মামদানিকে নির্বাচিত করেছে এবং মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জীবনের পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছেঃ ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ, চার বছরের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ রাখা, দ্রুত ও বিনামূল্যে বাস সার্ভিস, এবং সবার জন্য শিশুসেবার সুবিধা।
ঈঅঅঅঠ ঠড়রপব—এর অর্গানাইজিং ডিরেক্টর এলিনা শেন বলেন, ‘শ্রমজীবী ও অভিবাসী মানুষ এমন একজন মেয়রের প্রথম ১০০ দিন উদযাপন করছে, যিনি লাভের জন্য নয়, মানুষের জন্য কাজ করেন। সাশ্রয়ী জীবনের এই কর্মসূচি মানুষের কাছ থেকেই এসেছে, আর মানুষই এটি বাস্তবায়ন করবে। ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ করতে হোকুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা থেকে শুরু করে খারাপ বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে আসা। আমাদের এই আন্দোলন জোহরান মামদানি প্রশাসনের সাথে একসাথে কাজ করছে, যাতে নিউইয়র্কে শ্রমজীবী মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যায়। আমাদের এক থাকতে হবে। কারণ আমাদের এই শহর উচ্ছেদ ও বহিষ্কারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে সামনের সারিতে রয়েছে।’
প্রথম ১০০ দিনে, জোহরান মামদানি প্রশাসন মেয়রের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের সাথে মিলিত হয়ে কাজ করেছে। ফেব্রুয়ারিতে, এক হাজারেরও বেশি নিউইয়র্কবাসী অলবেনিতে সমাবেশ করে ক্যাথি হোকুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যাতে অতিধনীদের ওপর কর আরোপ করা হয় এবং সাবেক মেয়র এরিক এডামসের আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হওয়া ৭ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি কমানো যায়। ‘মেয়র’স অফিস টু প্রোটেক্ট টেন্যান্টস’—এর সাথে কাজ করার মাধ্যমে, শ্রমজীবী ও অভিবাসী ভাড়াটিয়ারা ‘রেন্টাল রিপ—অফ হিয়ারিংস’—এ ১,৩৫৮টি অভিযোগ/সাক্ষ্য উপস্থাপন করে, যেখানে বাড়ির খারাপ অবস্থা ও বিনিয়োগের অভাব তুলে ধরা হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো খারাপ বাড়িওয়ালাদের শহরের আবাসন নীতিমালা মেনে চলতে বাধ্য করা। এছাড়াও, মেয়র মামদানি শহরজুড়ে ভাড়াটিয়া ইউনিয়নগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন, যাতে যেসব বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গের রেকর্ড আছে, তাদের কাছে ভবন বিক্রি হওয়া ঠেকানো যায়।
ধনকুবেরদের সমর্থিত ক্যাথি হোকুল এবং মিলিয়নিয়ার ও সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিনের চাপ থাকা সত্ত্বেও, মেয়র জোহরান মামদানি শ্রমজীবী নিউইয়র্কবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবায় কাটছাঁট করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং তার বদলে অতিধনীদের ওপর কর আরোপের দাবি জানিয়েছেন। নিউইয়র্কবাসীদের মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি মানুষ এতটাই খরচ বহন করছে, যা তাদের আয়ের চেয়েও বেশি। যেখানে ক্রমবর্ধমান বাড়ি ভাড়াই সবচেয়ে বড় চাপ। ব্রুকলীন এবং ম্যানহ্যাটানে গড় বাড়িভাড়া মাসে রেকর্ড ৫,০০০ ডলারে পৌঁছেছে, অথচ মানুষের আয় প্রায় একই রয়ে গেছে।
মেয়র মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা ও ইরানে সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে শুরু করে। এপ্রিলের শুরুতে, ট্রাম্প প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেন, যা আগের বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বেশি। এই বাড়তি খরচ মেটাতে শ্রমজীবী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুবিধাগুলো (যেমন খাদ্য সহায়তা, বাসস্থান সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুসেবা) কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন লস অ্যাঞ্জেলস, শিকাগো, এবং মিনিয়াপোলিস—সেইন্ট পলের মতো স্যাংকচুয়ারি সিটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং অভিবাসন সংস্থা আইসিই—এর অভিযান ও ধরপাকড়/অপহরণ বাড়িয়েছে। এছাড়াও, আইসিই—এর বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধের জবাবে ট্রাম্প বারবার গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবাগুলোর জন্য ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
প্রগতিশীল, শ্রমজীবী ও অভিবাসী সংগঠনগুলোর সাথে মেয়র জোহরান মামদানির অংশীদারিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ কমানোর নীতির মাঝেও প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবাগুলো রক্ষা ও এগিয়ে নিতে। ক্যাথি হোকুলের কাছে ধনীদের ওপর কর আরোপের দাবি জানানো এবং সংগঠিত ভাড়াটিয়াদের সাথে মিলে খারাপ বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহির মধ্যে আনার পাশাপাশি, মামদানি প্রশাসনের প্রথম ১০০ দিনের অর্জনের মধ্যে রয়েছেঃ
—সার্বজনীন শিশু সেবার জন্য ১.২ বিলিয়ন ডলার নিশ্চিত করা হয়েছে
—শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮.৫ মিলিয়ন ডলার আদায় করা হয়েছে
—৬০,০০০ নিয়ম লঙ্ঘনের ব্যাপারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে
—আরও ৪.৩ মিলিয়ন কর্মী বর্ধিত/অতিরিক্ত নিশ্চিত/সুরক্ষিত ছুটি পেয়েছেন
—‘রেন্টাল রিপ—অফ হিয়ারিংস’—এর মাধ্যমে আরও ১,৩৫৮ জন মানুষ যুক্ত হয়েছে
—খারাপ বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে ৩.৪ মিলিয়ন ডলার আদায় করা হয়েছে
—৯৩, ২০০টি রাস্তার গর্ত (প্যাথহোল) মেরামত করা হয়েছে
—শহরের জরুরি তুষার পরিষ্কার (স্নো শোভেলার) কর্মসূচিতে ৬,০০০ মানুষ নাম লিখিয়েছে
‘পিপলস মেজরিটি অ্যালায়েন্স’—যেখানে ১২টি শ্রমিক ইউনিয়ন, ভাড়াটিয়া ও অভিবাসী অধিকার সংগঠন এবং ডিএসএ—এর মাধ্যমে ১ লক্ষের বেশি নিউইয়র্কবাসীর প্রতিনিধিত্ব করা হয়—গঠন করা হয় শহরের জীবনযাত্রার খরচের সংকট এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় আইসিই—এর কার্যক্রম বাড়ার প্রেক্ষাপটে। এই জোটে অন্তর্ভুক্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ ঈঅঅঅঠ ঠড়রপব, ঈওজ—ঝঊওট, উড়পঃড়ৎং ঈড়ঁহপরষ ঝঊওট, উজটগ ইবধঃং, ওঅঞঝঊ ১৬১, ঔবিং ঋড়ৎ জধপরধষ ্ ঊপড়হড়সরপ ঔঁংঃরপব, ঘবি ণড়ৎশ ঈরঃু উবসড়পৎধঃরপ ঝড়পরধষরংঃং ড়ভ অসবৎরপধ, ঘবি ণড়ৎশ ঈড়সসঁহরঃরবং ঋড়ৎ ঈযধহমব, চৎড়ভবংংরড়হধষ ঝঃধভভ ঈড়হমৎবংং ঈটঘণ, ঞবধসংঃবৎং খড়পধষ ৮০৪, ঘণঝ ঞবহধহঃ ইষড়প, ঔবরিংয ঠড়রপব ভড়ৎ চবধপব অপঃরড়হ এবং টহরঃবফ অঁঃড় ডড়ৎশবৎং (৯অ).
