হয়ে গেল ফাদার্স ডে—সহ বুটিক মেলা ও আচার প্রতিযোগিতা
বাঙালী প্রতিবেদনঃ এনজে বুটিক এবং ইন্টারলিংক গত ২০ জুন শনিবার আয়োজন করেছিল আচার প্রতিযোগিতার। সেই সাথে ছিল বুটিক বন্ধুমেলা এবং ফাদার্স ডে উদযাপন। জ্যামাইকার কুইন্স এডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের প্রোগ্রাম ভেন্যুতে বুটিক মেলা এবং অনুষ্ঠানমালা হয় অভ্যন্তরে। আর পাশের উন্মুক্ত ছাদ—বারান্দায় হয় আচার প্রতিযোগিতা। নয় জন প্রতিযোগী নিজেদের তৈরি আচার নিয়ে এতে যোগ দেন। প্রত্যেকে ছয় ধরনের আচার নিয়ে যান। একটি টেবিল একজন প্রতিযোগীর জন্য নির্ধারিত ছিল। নয়টি টেবিল একজনের থেকে অন্যটি দূরে দূরে সেট করা হয়। সেসব টেবিলে আচারের বয়মকে দৃষ্টিনন্দন আঙ্গিকে সাজানো হয়। বয়মের গায়ে লেবেলে আচারের নাম এবং উপকরণ লেখা ছিল। দুপুর থেকেই অনেকে সেসব আচার টেস্ট করেন।
কম্যুনিটির শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের চারজন ছিলেন বিচারকমন্ডলিতে। এরা হলেন মেরিস্টেলা শ্যামলি আহমেদ, আখতার আহমেদ রাশা, মিজানুর রহমান ও ড. হারুন রশিদ।
এই প্রতিযোগিতায় প্রথম হন সৈয়দা যোবাইদা, দ্বিতীয় শাহানা পারভীন আর তৃতীয় মাহমুদ চৌধুরী। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিচারকমন্ডলির সদস্যসহ অন্যরা। সেইসাথে প্রত্যেককে সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়। প্রথম পুরস্কার দেয়া হয় সাদিয়া বুটিকের সৌজন্যে, দ্বিতীয় শাম্মি’স এর সৌজন্যে আর তৃতীয় এনজে বুটিকের সৌজন্যে।
আচার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন নাহিদা রোজি, শেলি শামস, সৈয়দা যোবাইদা, ফাহমিদা পারভিন লিসা, শাহী আকতার, ফাহমিদা আহমেদ, মাহমুদ চৌধুরী, সুলতানা ফেরদৌসি, শাহানা পারভিন।
পুরস্কার বিতরণ শেষে বিচারকবৃন্দ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আচার বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাপনের সাথে জড়িয়ে আছে। ঘরে ঘরে নারীরা তাদের নিজের পছন্দমত নানা উপকরণ ও উপাদান দিয়ে আচার তৈরি করেন।
তারা বলেন, নিউইয়র্কের অনেকে ঘরে বসে আচার তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে মার্কেটিং করেন।
পুরস্কার বিজয়ীরা বলেন, এই ধরনের আয়োজন আমাদের উৎসাহিত করে।
ফাদার্স ডে পালনের শুরুতে বাবা ড. হারুনুর রশিদের লেখা বাবাকে নিয়ে কবিতা তার দুই শিশু কন্যা লিয়ানা ও এরিনা আবৃত্তি করে পরিবেশ ভারি করে তোলে। এরপর লিয়ানা মানহা আয় খুকু আয় গানটি গেয়েও মুগ্ধ করে। মেরিস্টেলা আহমেদ শ্যামলিও একটি গান গেয়ে শোনান। শেষে শিল্পী রাজীব ভট্টাচার্য বাবাকে নিয়ে কয়েকটি গান গেয়ে অনুষ্ঠানটিকে আনন্দমুখর করে তোলেন।
এর আগে সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ শৈশবে তার বাবার কাছ থেকে উচ্চারণ শেখা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।
যখন পুরস্কার বিতরণী ও ফাদার্স ডে’র অনুষ্ঠান চলছিল তখন প্রায় ১৫টি বুটিক শপে চলছিল কেনাকাটা। বুটিক শপগুলো হাল ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি সহ হাতে বানানো জুয়েলারি সামগ্রী বিক্রি করছিল।
পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন নজরুল কবির। তার সাথে ছিলেন হিয়া সানজিদা। আর তত্ত্বাবধানে ছিলেন এনজে বুটিকের নুসরাত জাহান এলিন।
