৫—০ গোলে জবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের জয়

স্পোর্টস প্রতিবেদনঃ সমালোচনার জবাবটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দিতে জানেন গোল দিয়েই। কঙ্গো ডিআরের বিপক্ষে ড্রয়ের পর যখন পর্তুগাল তাদের অধিনায়ককে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল, তখন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মঞ্চে ইতিহাস গড়ে সেই প্রশ্নগুলোর জবাব দিলেন ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা।

হিউস্টনে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন রোনালদো। পরে আরেকটি গোল যোগ করে নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা নিয়ে যান ১০এ। রোনালদোর জোড়া গোলের সঙ্গে নুনো মেন্দেস, আবদুখোদির খুসানোভের আত্মঘাতী গোল রাফায়েল লেয়াওয়ের শেষ মুহূর্তের গোল মিলিয়ে উজবেকিস্তানকে গোলে বিধ্বস্ত করেছে পর্তুগাল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচেটিয়া আধিপত্য দেখানো রবার্তো মার্তিনেজের দল বড় জয়ে যেমন নকআউটের পথে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, তেমনি রোনালদোও আবার মনে করিয়ে দিয়েছেনবিশ্বকাপের আলোচনায় তিনি এখনো কেন্দ্রীয় চরিত্র। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে আলোচনার শেষ নেই। তবে বিশ্বকাপ এলেই যেন নতুন করে ইতিহাস লেখার মঞ্চ পেয়ে যান পর্তুগিজ মহাতারকা। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সেটাই আবার প্রমাণ করলেন তিনি।

এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হন রোনালদো। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬টানা ছয় বিশ্বকাপেই গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি। একই সঙ্গে ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতাও হয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তালিকায় তাঁর ওপরে আছেন শুধু ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা।

প্রথম গোলের পরও থামেনি পর্তুগাল। ১৭তম মিনিটে আসে ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত। বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক পায় তারা। সবাই ধরে নিয়েছিল শট নিতে যাচ্ছেন রোনালদো। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিলেনও তিনি। কিন্তু রেফারির বাঁশি বাজতেই সবাইকে চমকে দিয়ে অন্য পাশ থেকে ছুটে এসে নিচু শটে বল জালে জড়ান নুনো মেন্দেস। নিখুঁত পরিকল্পনায় করা সেই গোল দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় উজবেকিস্তানের রক্ষণ।

ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে উজবেকিস্তান। ২৯তম মিনিটে গনিয়েভের দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট জালে জড়ালেও ভিএআরে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে ফাইজুল্লায়েভ ক্যানসেলোকে ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

চার গোলের লিড পাওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে পর্তুগাল। মাঝমাঠে ভিটিনিয়া জোয়াও নেভেসের দখলদারিত্বে খুব কমই আক্রমণে উঠতে পেরেছে উজবেকিস্তান।

৮৭তম মিনিটে গোল উৎসবের শেষ রঙটা ছড়ান বদলি হিসেবে নামা রাফায়েল লেয়াও। বাম দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে বল পেয়ে শক্তিশালী শটে নেমাতভকে পরাস্ত করেন তিনি। তার গোলে ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পর্তুগাল।

ভিতিনিয়া, ব্রুনো, জোয়াও ফেলিক্স ক্যানসেলোদের সমন্বিত ফুটবলের সামনে উজবেকিস্তান খুব কম সময়ই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেয়েছে।

কঙ্গো ডিআরের বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর যে দলটি সমালোচনার মুখে পড়েছিল, সেই পর্তুগাল এবার দেখাল তাদের প্রকৃত শক্তি। আর সেই শক্তির কেন্দ্রে ছিলেন সেই পুরোনো নামরোনালদো। বয়স ৪১ হলেও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ইতিহাস লেখা যে এখনো শেষ হয়নি, সেটাই আবার মনে করিয়ে দিলেন তিনি।

Related Posts