৫০ রাজ্যের ৫০ ভালোবাসার গল্প ঃ আইওয়া দ্য ব্রিজেস অব ম্যাডিসন কাউন্টিঃ রবার্ট জেমস ওয়ালার || আবদুল্লাহ জাহিদ নিউইয়র্ক
আমেরিকার মধ্য—পশ্চিমের রাজ্য আইওয়াÑভুট্টাক্ষেত, খামারবাড়ি, ধূলিধূসর গ্রামীণ রাস্তা, নীরব বিকেল, ছোট শহরের সামাজিক শৃঙ্খলা এবং কাঠের তৈরি পুরনো সেতুর দেশ। এই নীরব ভূগোলের মধ্যেই রবার্ট জেমস ওয়ালার নির্মাণ করেছেন বিংশ শতকের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেমের উপন্যাস দ্য ব্রিজেস অব ম্যাডিসন কাউন্টি। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত এই ছোট উপন্যাসটি সাহিত্য সমালোচকদের সকলকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি; বরং অনেকেই একে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ, রোমান্টিক কল্পনা, এমনকি ‘স্বপ্নময় রোমান্টিক কল্পনা’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু পাঠকসমাজ অন্য রায় দিয়েছিল। উপন্যাসটি দীর্ঘদিন বেস্টসেলার তালিকায় ছিল, বিশ্বজুড়ে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্রেও রূপান্তরিত হয়।
এই উপন্যাসের শক্তি তার কাহিনীর জটিলতায় নয়, বরং সরলতার ভেতর লুকিয়ে থাকা গভীর মানবিক দ্বন্দ্বে। গল্পটি মূলত চার দিনের। কিন্তু সেই চার দিন দুই মানুষের সারা জীবনের অর্থ বদলে দেয়। প্রশ্নটি সহজ, অথচ ভয়ংকর: মানুষ কি সবসময় সেই জীবন বেছে নিতে পারে, যা সে সত্যিকার অর্থে চায়? নাকি দায়িত্ব, পরিবার, সমাজ ও নৈতিকতার অদৃশ্য সেতুগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে তাকে নিজের হৃদয়ের বিপরীতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়?
কাহিনীর সূচনা:
উপন্যাসটি শুরু হয় ফ্রান্সেসকা জনসনের মৃত্যুর পর। তাঁর ছেলে মাইকেল ও মেয়ে ক্যারোলিন মায়ের রেখে যাওয়া কাগজপত্র, চিঠি ও নির্দেশনা খুঁজে পায়। তারা জানতে পারে, তাদের শান্ত, সংযত, দায়িত্বশীল মা জীবনের এক সময়ে এমন এক প্রেমে পড়েছিলেন, যা তিনি কখনো প্রকাশ করেননি। সেই প্রেমের মানুষ ছিলেন রবার্ট কিনকেইড, একজন ভ্রাম্যমান আলোকচিত্রী, যিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের জন্য ছবি তুলতে আইওয়ার ম্যাডিসন কাউন্টিতে এসেছিলেন।
ফ্রান্সেসকার সন্তানরা তাদের মাকে চিনত একজন কৃষকের স্ত্রী, একজন মা, একজন গৃহিণী হিসেবে। কিন্তু মৃত্যুর পর মায়ের ব্যক্তিগত দলিলপত্র যেন তাদের সামনে আরেকজন নারীর দরজা খুলে দেয়Ñএকজন যিনি স্বপ্ন দেখতেন, প্রেমে পড়েছিলেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এবং সেই সিদ্ধান্তের ভার বহন করেছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
এই কাঠামো উপন্যাসটিকে স্মৃতির গল্পে পরিণত করে। পাঠক শুরু থেকেই জানে, প্রেমটি অতীতের। তাই কাহিনীর ভেতর এক ধরনের অনিবার্য বেদনা কাজ করে। আমরা শুধু জানতে চাই না কী ঘটেছিল; আমরা জানতে চাই কেন ফ্রান্সেসকা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
প্রথম সাক্ষাৎ:
১৯৬৫ সালের গ্রীষ্ম। ফ্রান্সেসকার স্বামী ও সন্তানরা কয়েক দিনের জন্য বাড়ির বাইরেÑইলিনয়ের এক কৃষিমেলায় গেছে। সেই সময় রবার্ট ম্যাডিসন কাউন্টির কাভার্ড ব্রিজগুলোর ছবি তুলতে আসে। পথ হারিয়ে সে ফ্রান্সেসকার বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় এবং রোজম্যান ব্রিজের পথ জানতে চায়।
ফ্রান্সেসকা শুধু পথ বলে দেন না; নিজেই গাড়িতে উঠে তাঁকে পথ দেখাতে যান। এই সামান্য সৌজন্যই কাহিনীর বাঁক।
রোজম্যান ব্রিজের দিকে সেই যাত্রা আসলে দুই মানুষের ভেতরের অদৃশ্য সেতু নির্মাণের শুরু। প্রথমে কথা, তারপর কৌতূহল, তারপর আকর্ষণ, তারপর এক গভীর মানসিক মিলন। তারা কথা বলে শিল্প, ভ্রমণ, জীবন, নিঃসঙ্গতা, অপূর্ণতা এবং মানবিক আকাক্সক্ষা নিয়ে।
ফ্রান্সেসকা বুঝতে পারেন, বহু বছর পর কেউ তাঁকে শুধু স্ত্রী বা মা হিসেবে নয়, একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখছে।
তাদের সম্পর্ক মাত্র চার দিনের। কিন্তু ওয়ালার এই চার দিনকে সাধারণ সময় হিসেবে দেখাননি। যেন সময় হঠাৎ ঘন হয়ে ওঠে। সাধারণ জীবনে যা বছরের পর বছরেও ঘটে না, তা ঘটে কয়েকটি বিকেল, কয়েকটি রাত, কয়েকটি কথোপকথন এবং কয়েকটি নীরব দৃষ্টির মধ্যে।
এই প্রেমের মধ্যে আবেগ আছে, শারীরিক আকর্ষণ আছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে আত্মিক স্বীকৃতি। ফ্রান্সেসকা অনুভব করেন, তিনি আবার জীবন্ত। রবার্ট অনুভব করেন, তাঁর দীর্ঘ ভ্রমণের অর্থ যেন এই সাক্ষাতে এসে পূর্ণতা পেল।
রবার্ট ফ্রান্সেসকাকে তাঁর সঙ্গে চলে যেতে বলেন। এখানে উপন্যাসটি সবচেয়ে গভীর নৈতিক দ্বন্দ্বে প্রবেশ করে।
ফ্রান্সেসকা কি যাবেন? গেলে তিনি কি নিজের প্রতি সত্য থাকবেন? না গেলে কি তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে সত্য মুহূর্তটিকে অস্বীকার করবেন?
তিনি জানেন, রবার্টের সঙ্গে গেলে তিনি এক অন্য জীবন পাবেন। ভ্রমণ, স্বাধীনতা, শিল্প, গভীর প্রেমÑসবই সেখানে আছে। কিন্তু পেছনে থাকবে স্বামী, সন্তান, পরিবার, সামাজিক আঘাত, অপরাধবোধ এবং ভেঙে যাওয়া জীবনের দায়।
তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর চলে যাওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হবে না; তা সন্তানদের জীবন, স্বামীর মর্যাদা এবং পারিবারিক কাঠামোকে ভেঙে দেবে।
এইখানেই ফ্রান্সেসকার চরিত্রের মহত্ত্ব ও বেদনা। তিনি নিজের হৃদয়কে অস্বীকার করেন, কিন্তু তা কাপুরুষতার জন্য নয়; বরং দায়িত্বের ভয়াবহ সচেতনতা থেকে।
উপন্যাসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হলো বৃষ্টির মধ্যে সেই দৃশ্য। ফ্রান্সেসকা স্বামীর ট্রাকে বসে আছেন। সামনে রবার্টের গাড়ি। ফ্রান্সেসকার হাত গাড়ির দরজার হাতলে। চাইলে তিনি নেমে যেতে পারেন। চাইলে তিনি রবার্টের সঙ্গে চলে যেতে পারেন।
কিন্তু তিনি যান না।
এই দৃশ্যের শক্তি তার নাটকীয়তায় নয়; তার থেমে যাওয়ায়। প্রেমের অনেক গল্প মিলনে শেষ হয়। এই গল্প শেষ হয় না—যাওয়ার সিদ্ধান্তে। আর সেই না—যাওয়াই উপন্যাসটিকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।
এই উপন্যাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হলো সেতু।
সেতু সাধারণত দুই তীরকে যুক্ত করে। এখানে সেতুগুলো যুক্ত করে দুই জীবনকেÑফ্রান্সেসকার স্থির, পারিবারিক, কৃষিজীবন এবং রবার্টের মুক্ত, ভ্রাম্যমাণ, শিল্পীজীবন।
কিন্তু সেতু শুধু সংযোগ নয়; তা পারাপারের প্রশ্নও তোলে। সেতু আছে মানেই কি মানুষ পার হবে? ফ্রান্সেসকার জীবনে সেতু উপস্থিত হয়েছিল, কিন্তু তিনি পুরোপুরি পার হননি। তিনি সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইলেনÑএকদিকে প্রেম, অন্যদিকে পরিবার।
রোজম্যান ব্রিজ তাই শুধু ভৌগোলিক স্থান নয়; এটি জীবনের অসম্পূর্ণ সম্ভাবনার প্রতীক। মানুষের জীবনে কখনো কখনো এমন সেতু আসে, যার ওপারে অন্য জীবন, অন্য সুখ, অন্য পরিচয় অপেক্ষা করে। কিন্তু সবাই সেই সেতু পার হতে পারে না।
উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলি:
ফ্রান্সেসকা জনসন:
ফ্রান্সেসকা জনসন ইতালির নারী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ—পরবর্তী সময়ে তিনি আমেরিকান সৈনিক রিচার্ড জনসনকে বিয়ে করে আইওয়ায় চলে আসেন। প্রথমে আমেরিকা তাঁর কাছে নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মধ্য—পশ্চিমের কৃষিজীবনের একঘেয়েমি তাঁর ভেতরের উচ্ছ্বাস, শিল্পবোধ ও রোমান্টিক সত্তাকে নিঃশব্দে গ্রাস করে।
তিনি অসুখী নন, কিন্তু সম্পূর্ণ সুখীও নন। এই মধ্যবর্তী অবস্থাই তাঁকে জটিল করে তোলে। তাঁর স্বামী খারাপ মানুষ নন। সন্তানদের তিনি ভালোবাসেন। কিন্তু নিজের ভেতরের যে নারীটি একসময় অন্য আকাশের স্বপ্ন দেখত, সে যেন ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেছে।
ফ্রান্সেসকার জীবনের ট্র্যাজেডি এখানেই: তিনি এমন কোনো দাম্পত্যে বন্দি নন যেখানে নিপীড়ন আছে; বরং তিনি এক নীরব, সুশৃঙ্খল, ভদ্র সংসারে বন্দি, যেখানে তাঁর গভীরতম সত্তার জন্য কোনো ভাষা নেই। এই নিঃশব্দ বন্দিত্বই তাঁকে পাঠকের কাছে এত মানবিক করে তোলে।
রবার্ট কিনকেইড:
রবার্ট কিনকেইড এক স্বাধীনচেতা আলোকচিত্রী। তিনি পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়ান, মানুষের তৈরি সভ্যতার চেয়ে প্রকৃতি, আলো, সময় ও স্থানের গোপন সৌন্দর্য খুঁজে বেড়ান। তাঁর ক্যামেরা শুধু ছবি তোলে না; যেন মানুষের অদেখা অস্তিত্ব ধরে রাখে।
কিন্তু তাঁর স্বাধীনতার ভেতরেও গভীর নিঃসঙ্গতা আছে। তাঁর কোনো স্থায়ী ঘর নেই। তিনি যেন পৃথিবীর মানুষ, অথচ কোথাও পুরোপুরি নিজের নন। ফ্রান্সেসকার সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁকে প্রথমবার অনুভব করায়—তিনি শুধু ছবি তুলতে আসেননি; তিনি যেন তাঁর জীবনের অনুপস্থিত অংশটি খুঁজে পেয়েছেন।
রবার্ট চরিত্রটি অনেক পাঠকের কাছে প্রায় পৌরাণিক। তিনি শক্ত, নীরব, শিল্পীসুলভ, সংবেদনশীল। আবার বাস্তব জীবনের তুলনায় কখনো কখনো অতিরিক্ত নিখুঁতও মনে হতে পারে। এ কারণেই সমালোচকেরা উপন্যাসটিকে ‘কল্পনামূলক রোমান্স’ বলেছেন। কিন্তু পাঠকেরা রবার্টকে বাস্তব মানুষ হিসেবে নয়, এক সম্ভাব্য জীবনের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছে।
রিচার্ড জনসন:
ফ্রান্সেসকার স্বামী রিচার্ড জনসন উপন্যাসে বড় উপস্থিতি না থাকলেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কোনো নিষ্ঠুর স্বামী নন। তিনি পরিশ্রমী, সৎ, দায়িত্বশীল। এই কারণেই ফ্রান্সেসকার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
যদি রিচার্ড খারাপ মানুষ হতেন, তাহলে ফ্রান্সেসকার চলে যাওয়া নৈতিকভাবে সহজ মনে হতো। কিন্তু তিনি খারাপ নন। তিনি শুধু ফ্রান্সেসকার গভীর আকাক্সক্ষাকে বোঝেন না।
এখানে ওয়ালার দেখান, দাম্পত্যের অসম্পূর্ণতা সবসময় নিষ্ঠুরতা থেকে আসে না। অনেক সময় ভালো মানুষরাও একে অপরের ভেতরের মানুষটিকে দেখতে ব্যর্থ হয়।
সন্তানদের দৃষ্টিকোণ
মাইকেল ও ক্যারোলিনের মাধ্যমে উপন্যাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর তৈরি হয়। তারা মায়ের মৃত্যুর পর মায়ের গোপন প্রেম জানতে পেরে প্রথমে অস্বস্তিতে পড়ে। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা মাকে নতুনভাবে চিনতে শেখে।
এটি শুধু ফ্রান্সেসকার প্রেমের গল্প নয়; সন্তানদের চোখে মায়ের পুনর্জন্মের গল্পও। তারা বুঝতে পারে, মা শুধু মা নন; তিনি একজন নারী, প্রেমিকা, স্বপ্নদ্রষ্টা, যন্ত্রণাবাহী মানুষ।
এই উপলব্ধি অত্যন্ত মানবিক। আমরা অনেক সময় আমাদের বাবা—মাকে শুধু তাঁদের পারিবারিক ভূমিকায় দেখি। তাঁদের ব্যক্তিগত আকাক্সক্ষা, যৌবন, ব্যর্থতা, প্রেম, দুঃখ—এসব ভুলে যাই। উপন্যাসটি সেই ভুল ভাঙায়।
আইওয়ার সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও গল্পের পটভূমি
আইওয়া আমেরিকার কৃষিভিত্তিক হৃদয়ভূমির অংশ। এখানে জমি, পরিবার, শ্রম, চার্চ, স্থানীয় সমাজ এবং সামাজিক সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোট শহরের জীবন মানুষকে নিরাপত্তা দেয়, কিন্তু একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আকাক্সক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ফ্রান্সেসকার জীবন এই আইওয়ান বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর স্বামী কৃষক। তাঁদের পরিবার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর অংশ। এখানে মানুষ একে অপরকে চেনে; ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও সামাজিক ঘটনার মতো বিবেচিত হয়।
ম্যাডিসন কাউন্টির কাভার্ড ব্রিজগুলো উনিশ শতকের আমেরিকান গ্রামীণ স্থাপত্যের স্মারক। এগুলো একসময় বাস্তব প্রয়োজনে নির্মিত হয়েছিল নদী বা খালের ওপর চলাচলের জন্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এগুলো স্মৃতি, ঐতিহ্য এবং নস্টালজিয়ার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এই উপন্যাসের পর ম্যাডিসন কাউন্টি শুধু আইওয়ার একটি অঞ্চল নয়; প্রেম, স্মৃতি ও অপ্রাপ্তির সাহিত্যিক মানচিত্রে স্থান পায়।
আইওয়ার বিস্তৃত প্রান্তর, ভুট্টাক্ষেত, নীরব রাস্তা এবং দূরত্বের অনুভূতি ফ্রান্সেসকার অন্তর্লোককে প্রতিফলিত করে। তাঁর জীবন যেমন বাইরে থেকে শান্ত, ভেতরে তেমন গভীরভাবে অনুচ্চারিত।
কেন উপন্যাসটি আজও গুরুত্বপূর্ণ
আজকের পাঠকের কাছে উপন্যাসটি হয়তো কিছু জায়গায় পুরনো মনে হতে পারে। কিন্তু এর মূল প্রশ্ন এখনও জীবন্ত।
মানুষ কি শুধু সামাজিক ভূমিকা দিয়ে গঠিত? একজন মা কি শুধু মা? একজন স্ত্রী কি শুধু স্ত্রী? একজন দায়িত্বশীল মানুষ কি নিজের হৃদয়ের আকাক্সক্ষা ভুলে যাবে?
ফ্রান্সেসকা জনসনের চরিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি মানুষের ভেতর একটি গোপন জীবন থাকে। সেই জীবন কখনো প্রকাশ পায়, কখনো পায় না। কখনো চার দিনের জন্য দরজা খুলে যায়, তারপর আবার বন্ধ হয়ে যায়।
রবার্ট কিনকেইড আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতারও একাকীত্ব আছে। আর প্রেম কখনো কখনো ঘর নয়, বরং পথের মধ্যেই এসে দাঁড়ায়।
দ্য ব্রিজেস অব ম্যাডিসন কাউন্টি প্রেমের গল্প, কিন্তু শুধু প্রেমের নয়। এটি স্মৃতি, দায়িত্ব, সামাজিকতা, নারীর অন্তর্লোক, মধ্য—পশ্চিম আমেরিকার সংস্কৃতি এবং জীবনের অসম্পূর্ণ সম্ভাবনার গল্প।
লেখক পরিচিতি
রবার্ট জেমস ওয়ালার ১৯৩৯ সালে আইওয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখক, আলোকচিত্রী, সংগীতশিল্পী এবং অধ্যাপক ছিলেন। আইওয়ার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক গভীর ছিল। সেই কারণেই তাঁর লেখায় মধ্য—পশ্চিম আমেরিকার ভূদৃশ্য এত স্বাভাবিকভাবে এসেছে।
