ব্রুকলীন পাবলিক লাইব্রেরিতে বিপার পরিবেশনা ‘মেলোডি এন্ড রিদম’
বাঙালী প্রতিবেদনঃ ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তন গত মঙ্গলবার বিকেলে বাংলা গান ও বাঙালি নৃত্যে মুখর হয়ে উঠেছিল। স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস, বিপার ব্রুকলিন শাখার শিল্পীরা এই আয়োজনে অংশ নেয়। সাবিনা শারমিন নিরুর গোছানো সঞ্চালনায় আয়োজিত এই নাচ ও গানের এক ঘন্টার অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশীসহ অন্য কম্যুনিটির দর্শকদের স্বাগত জানান বিপার অন্যতম কান্ডারি এ্যানি ফেরদৌস।
‘মেলোডি এন্ড রিদম’ নামের অনুষ্ঠানে ৬ কিশোর—কিশোরী শিক্ষার্থী—শিল্পী পরিবেশন করে সমবেত কণ্ঠে গান শিক্ষক নিলোফার জাহানের নেতৃত্বে। গানগুলি ছিল আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, আলো আমার আলো ওগো আলোয় ভুবন ভরা, শুকনো পাতার নূপুর পায়ে নাচিছে ঘুর্ণি। দুই কিশোরী আনন্দময়ী ও মৃত্তিকা যুগল নৃত্য পরিবেশন করে। জগন্নাথ লাইরানজাম মৃদঙ্গ সহকারে তাল ও নাচের সমন্বয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন পরিবেশনা উপহার দেন। মানদিলা নত্তর্ন একটি মনিপুরি করতাল নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করেন। এছাড়াও রাধা ও কৃষ্ণের চিরকালীন প্রেমভিত্তিক নৃত্য পরিবেশন করেন জলি লাইরেনজাম।
নাচ ও গান এবং মৃদঙ্গের ছন্দে যখন ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরির ছোট মিলনায়তনটিতে প্রতিধ্বনি উঠছে, তখন মঞ্চের পাশে ইজেলে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নদী, গ্রাম ও গাছ, আকাশের ছবি আঁকছিল কিশোরী শিল্পী মোনামী আহমেদ। গানে হারমোনিয়ামে নেতৃত্ব দেন নিলোফার জাহান, তবলায় গুণী শিল্পী মির নকিবুল ইসলাম আর মন্দিরায় এ্যানি ফেরদৌস।
সবশেষে এ্যানি ফেরদৌস এই অনুষ্ঠান পরিবেশনার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরিকে। তার আগে মোনামী আহমেদ তার আঁকা চিত্রকর্মটি দর্শকদের উদ্দেশে তুলে ধরেন।
মঞ্চের একপাশে একটি ব্যানারে ব্রুকলিনভিত্তিক বাংলাদেশ লেডিস ক্লাবের বিভিন্ন কর্মসূচীর কথা তুলে ধরা হয়। বছরব্যাপি এই কর্মসূচীতে আছে পিঠা উৎসব, কৃতি নারী সংবর্ধনা, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, সেলাই শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, কম্পু্যটার বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা, কাঁথা সেলাই, মানসিক ও শারীরিক বিনোদন।
এদিনের এই অনুষ্ঠানটি ছিল ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরির ইমিগ্রান্ট সার্ভিসেসের। লাইব্রেরির কর্মকর্তা এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান বিপাকে।
