‘টক্সিক’ সিনেমায় ভিন্ন এক চমকে যশ
‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির আকাশচুম্বী সাফল্যের পর তার প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে ভক্তদের মাঝে ছিল টানটান উত্তেজনা। সেই অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে এবার আসছে তার নতুন সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোনআপস’। তবে যারা ভেবেছিলেন রকি ভাইয়ের মতো আবারও মারদাঙ্গা কোনো গ্যাংস্টার ড্রামা দেখতে পাবেন, তাদের জন্য রয়েছে ভিন্ন এক চমক। সম্প্রতি সিনেমাটি নিয়ে মুখ খুলেছেন যশ। তিনি জানান, প্রথম দেখায় একে সাধারণ গ্যাংস্টার মুভি মনে হলেও এর পরতে পরতে মিশে আছে জটিল মনস্তত্ত্ব। যশ বলেন, ‘‘টক্সিক’ কেবল গ্যাংস্টারের গল্প নয়, বরং এটি মানুষের মনের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান। এই সিনেমার নেপথ্যের কারিগর হিসেবে পরিচালক গীতু মোহন্দাসের ভূয়সী প্রশংসা করেন যশ। তার মতে, গীতুর আধুনিক চিন্তাভাবনা এবং নির্মাণের ভিন্নতাই এই ছবিকে অন্যান্য অ্যাকশন মুভি থেকে আলাদা করেছে। গ্যাংস্টার প্রেক্ষাপট থাকলেও এর ভেতরে থাকা চমকপ্রদ ‘টুইস্ট’ দর্শকদের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দেবে। নিজের চরিত্র সম্পর্কে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এই তারকা বলেন, ‘চরিত্রের অন্ধকার দিক আমাকে সবসময় টানে। ধূসর চরিত্রে অভিনয়ের কোনো সীমারেখা থাকে না, একজন শিল্পীর জন্য এটাই আসল আনন্দ।’ সব মিলিয়ে ‘টক্সিক’ যে কেবল গোলাগুলি আর অ্যাকশনে সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা যশের কথাতেই স্পষ্ট।
অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে যা বললেন যশ
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা যশ নতুন সিনেমা নিয়ে আসছেন, যার নাম ‘টক্সিক’। তার ভক্ত—অনুরাগীরা দীর্ঘদিন ধরে সেই সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিছু দিন আগে সেই সিনেমাটির টিজার মুক্তি পেয়েছে। যেখানে কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। টিজারে দেখা যায়, যশ জমকালো পোশাক পরা এক নারীর সঙ্গে একটি ক্যাসিনোতে প্রবেশ করছেন। ভিডিওটির একাংশে দেখা যায়, নারীটি তার উপরে বসে আছেন এবং যশ তার গায়ে মদ ঢালছেন। সেই দৃশ্যগুলো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে এবং অনেকেরই তা পছন্দ হয়নি। এবার সেই দৃশ্যগুলো নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করলেন এ দক্ষিণী অভিনেতা।যশ বলেন, পরিচালক গীতু মোহনদাস অ্যাকশন সিনেমায় ফিমেল গেজ চান। অর্থাৎ তিনি চান এই সিনেমাগুলোতে নারীকে প্রাধান্য দেওয়া হোক। তিনি নারী ও পুরুষ পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার পার্থক্যও ব্যাখ্যা করেন।
সামাজিক মাধ্যমে একজন আমেরিকান কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে কথা বলার সময় যশকে বলা হয়েছিল যে, ভারতে কোনো নারী পরিচালকের অ্যাকশন ফিল্ম বানানো বিরল। তার পরিপ্রেক্ষিতে যশ বলেন, ‘এটাই সবচেয়ে উত্তেজনার বিষয়। তাই যখন অ্যাকশন ফিল্মের কথা আসে, তখন সব সময় পুরুষ অভিনেতাদের কথাই বলা হয়। ভারতে এটাই নিয়ম। একটা বড়মাপের অ্যাকশন ফিল্ম, বিশেষ করে একটা গ্যাংস্টার ফিল্ম, যেখানে একজন নারী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন, তা খুবই নতুন এবং সতেজ।’
এ দক্ষিণী অভিনেতা বলেন, তার একটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং তিনি যা কিছু করেন, তা দৃঢ়তার সঙ্গে করে থাকেন। তিনি একজন অসাধারণ লেখিকাও। আমি ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সিনেমায় কীভাবে আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়, প্রেমকাহিনি কিংবা একজন নারীকে কীভাবে দেখানো হয় বা কীভাবে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে হয়— এ জার্নিতে আমি এসবই শিখেছি।
উত্তাপ ছড়ানো কে এই অভিনেত্রী?
পরিচালক গীতু দাস ‘টক্সিক’র অন্যান্য অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, নয়নতারা এবং রুক্মিণী বসন্ত এর চরিত্র ও পোস্টার প্রকাশ করলেও টিজারে উত্তাপ ছড়ানো এই অভিনেত্রীকে নিয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
টিজারে নজরকাড়া এই নারী হলেন ইউক্রেনীয়—আমেরিকান অভিনেত্রী ন্যাটালি বার্ন। মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে তিনি হলিউডের অ্যাকশন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ‘দ্য এক্সপেন্ডেবলস ৩’, ‘মেকানিক: রিসারেকশন’, ‘ডাউনহিল’, ‘দ্য এনফোর্সার’সহ একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও ন্যাটালি একজন স্ক্রিনরাইটার এবং প্রযোজকও যিনি ‘এক্সিসেলেরেশন’, ‘ফোর্ট্রেস’ এবং ‘দ্য এনফোর্সার’ ছবিতে কাজ করেছেন। ন্যাটালি একজন প্রশিক্ষিত মার্শাল আর্টিস্ট। হলিউডে তিনি অ্যাকশন ও স্টান্টভিত্তিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত।
অভিনয়ে আসার আগে ন্যাটালি ছিলেন পেশাদার ব্যালে নৃত্যশিল্পী। মস্কোর বলশই ব্যালে স্কুল ও লন্ডনের রয়্যাল ব্যালে স্কুলে প্রশিক্ষণ নেন। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে লি স্ট্রাসবার্গ থিয়েটার ইনস্টিটিউট ও আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামাটিক আর্টসে অভিনয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেন।
অনিশ্চয়তায় ‘টক্সিক’ সিনেমার মুক্তি
বহুল প্রত্যাশিত ‘টক্সিক’ সিনেমার মুক্তির তারিখ আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে ছবিটি ৪ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি এখন বিশ্বব্যাপী সুবিধাজনক একটি নির্ধারিত তারিখে মুক্তি পাবে। ২৯ এপ্রিল একটি নতুন বিবৃতিতে যশ বলেছেন যে ছবিটি এখন একটি ‘বিশ্বব্যাপী সুবিধাজনক তারিখে’ মুক্তি পাবে, কারণ সিনেমাকনে তারা ‘অভূতপূর্ব বিশ্বব্যাপী সাড়া’ পেয়ে অভিভূত হয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু সিনেমা আমরা তৈরি করি, আবার কিছু সিনেমা আমাদের মনে করিয়ে দেয় কেন আমরা সিনেমার প্রেমে পড়েছিলাম। ‘টক্সিক’ তেমনই একটি যাত্রা। সিনেমাকনে আমাদের সিনেমাটি উপস্থাপন করা এবং বিশ্বজুড়ে বিপুল সাড়া পাওয়াটা আমাদের সেই বিশ্বাসকেই আরও দৃঢ় করেছে— যে এই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছানোর যোগ্য।
যশ নিশ্চিত করেছেন যে সিনেমার শুটিং শেষ হয়েছে এবং তারা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশনা ও অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘টক্সিক’—এর কাজ শেষ হয়েছে এবং আমরা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশনা ও অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করছি। এই পরিপ্রেক্ষিতে, আমরা আমাদের মুক্তির সময়সূচী পুনর্বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও আমরা আগে ঘোষিত ৪ জুন তারিখে সিনেমাটি মুক্তি দিচ্ছি না, তবে আমরা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী একটি নির্ধারিত তারিখে এটি মুক্তি দেব। ‘টক্সিক’ শিগগিরই বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে আসছে।
