বর্ষবরণ উপলক্ষে সম্মিলিত বিশ^বিদ্যালয় এলামনাই’র প্রথম পর্ব || শিশু—কিশোরদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
বাঙালী প্রতিবেদনঃ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এবারও তাদের আয়োজন শুরু করেছে। এই আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর এলামনাই এসোসিয়েশন অব আমেরিকা। এই আয়োজনের প্রথম পর্ব সম্পন্ন হলো গত রবিবার জ্যাকসন হাইটসের ঠিকানা হাবে। এতে ছিল শিশু কিশোর প্রতিযোগিতা। মূল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হবে ৩ মে রবিবার জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে।
গত রবিবার শিশু—কিশোর প্রতিযোগিতায় ছিল বয়সভিত্তিক তিনটি গ্রুপের কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, গানের কথায় মিলিয়ে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা ও যেমন খুশি সাজো। আবৃত্তিতে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রবিবার, কাজী নজরুল ইসলামের সংকল্প, জসিমউদ্দিনের মামার বাড়ি, খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দিনের কানা বগীর ছাঁ, শামসুর রাহমানের স্বাধীনতা তুমি, এবং যতীন্দ্র মোহন বাগচীর কাজলা দিদি। যেসব কবিতা ও গানের কথার ওপর ভিত্তি করে শিশু—কিশোররা ছবি আঁকে সেগুলো হলো রবীন্দ্রনাথের আমাদের ছোট নদী, সোনার তরী, নজরুলেল প্রজাপতি প্রজাপতি, খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীনের কানা বগীর ছা, আমরা করব জয় ও যে দেশেতে শাপলা শালুক। উপস্থিত বক্তৃতা হয় ইংরেজিতে। এতে ৩৬টি বিষয় ছিল। তবে যেসব বিষয়ে র্যাফেলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখে তার অন্যতম হলো গ্লোবাল ওয়ার্মিং, আর্থÑ মাই প্লানেট, ফ্রেন্ডশিপ, ফেভরিট লিডার, মোস্ট মেমোরেবল বার্থ ডে পার্টি, ফ্যামিলি, ফেভরিট হবি ইত্যাদি। সবগুলো প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০ শিশু কিশোর অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন কবি মনজুর কাদের, কৌশিক আহমেদ, সনম আহমেদ, খাইরুল ইসলাম পাখি, কায়সার কামাল, জেবুন্নেসা কামাল ও আজিজ নঈমি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুইন্স এডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের সিইও ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক। তিনি তার বক্তব্যে সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এমন আয়োজনে তাদের সম্পৃক্ত করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান আরো বেশি হওয়া উচিত। এটা অন্য অনুষ্ঠানের মত নয়। নতুন প্রজন্মকে এভাবে উৎসাহিত করা উচিত। তিনি বলেন, আমি এই অনুষ্ঠানে আগেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। তাকে ফুল ও উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
শুরুতেই ৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই এসোসিয়েশনের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা মঞ্চে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইএর এস আলম, রুহুল সরকার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইএর সভাপতি মেঘনা পালসহ ইউসুফ আলি, আখতার আহমেদ রাশা, জামান মনির, মেঘনা পাল, শবনম পাপড়ি, মেরিস্টেলা আহমেদ শ্যামলী, শামিম আরা বেগম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইএর সাবিনা শারমিন, মীর রাসেল প্রমুখ। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইএর সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত মল্লিক অয়ন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এটর্নি মঈন চৌধুরী উপস্থিত হয়ে এই ধরনের আয়োজনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।
সবশেষে অংশগ্রহণকারী সব শিশু কিশোরকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার তুলে দেন ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক ও তানিয়া হক।
বিভিন্ন পর্বে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন দুররে মাকনুন নবনী, শামীম আরা বেগম, আফ্রোদিতি পান্না ও সিফাত নায়ার।
