শিল্পাঙ্গনের সম্মাননা শামসআল মমীনকে

নিউইয়র্কঃ শিল্পাঙ্গনের উদ্যোগে গত ১৯ এপ্রিল লং আইল্যান্ডের লেভিটটাউন হলে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩কে বরণ করে নিতে আয়োজন করা হয় জমজমাট উৎসবের। বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পোশাক, আহার সাজসজ্জার সমন্বয়ে নববর্ষ উদযাপন লং আইল্যান্ডে এক মাইলফলকের সূচনা করে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে মিলনায়তনে উপচে পড়া দর্শক দিনভর বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যে অবগাহন করে।

বছর মঞ্চ, মিলনায়তনের সাজসজ্জা এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন ছিল বিশেষ আকর্ষণীয়, শৈল্পিক তাৎপর্যপূর্ণ। শিল্পাঙ্গনের নিজস্ব শিল্পীরাই দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে সৃজনশীলতায় তুলে ধরেছে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে। ঢেঁকি, পাল্কি, বায়োস্কোপ, আলপনা মুখোশ উপস্থিত সুধীজনকে স্মৃতিকাতর করে তোলে। নববর্ষের সজ্জার দায়িত্ব পালন করেছেন একদল কারু চিত্রশিল্পী, যাদের মধ্যে রয়েছেন তাসনিম খান, ফারজানা সুলতানা, নুসায়বাহ কবির, রাফিয়া খান, সোনিয়া পান্না, রাহাত চৌধুরী, রুবিনা চৌধুরী, তুবা মুক্তাদীর, নাহিদ রহমান, শাহপার ইসলাম, সাদিয়া খান, গাজী সালাহউদ্দিন, হাসিব হোসেন, স্বপন কবির, এবং তৌফিক খান।

দুপুরে বৈশাখী ভোজের মাধ্যমে অতিথি, শিল্পী দর্শকবৃন্দকে আপ্যায়ন করা হয়। এরপর দূপুর :৩০ মিনিটে বর্ণাঢ্য দীর্ঘ মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শোভাযাত্রা মঞ্চে সমবেত হলে শিল্পাঙ্গনের শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত। বিশিষ্ট কবি শামস আল মমীন মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শিল্পাঙ্গনের নববর্ষ উৎসবের উদ্বোধন করেন। শিল্পাঙ্গনের পক্ষ থেকে পরিচালনা পর্ষদ কবি শামস আল মমীনকে উত্তরীয় সম্মাননা প্রদান করেন। শিল্পাঙ্গনের সভাপতি আমর আশরাফ সকল অতিথি, শিল্পী দর্শকদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। কবি শামস আল মমীন তাঁর বক্তব্যে শিল্পাঙ্গনের শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চাকে সাধুবাদ জানান এবং সকলের মঙ্গল কামনা করেন।

শিল্পাঙ্গনের নববর্ষের আয়োজনকে সমৃদ্ধ করতে যোগ দেন কবি মনজুর কাদের, খালেদ সরফুদ্দীন, মিশুক সেলিম, আবু সাঈদ রতন, আনোয়ার সেলিম, নাট্যজন রেশমা চৌধুরী, শাহীণূর শাণূ, রাফিয়া খান, এবং প্রকৌশলী দীপ্তি বড়ুয়া। কবিকণ্ঠে বৈশাখের কবিতা পাঠের পর্ব সঞ্চালনা করেন নাট্যজন শিরীন বকুল।

শিল্পাঙ্গনের নববর্ষ উৎসবের এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় কবি শামস আল মমীনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ কাব্যালাপ। কবির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন শিরীন বকুল। কবির দুটি কবিতা আবৃত্তি করেন দুজন বাচিকশিল্পী শাহীণূর শাণূ এবং মোহাম্মদ শানু।

শিল্পাঙ্গনের নববর্ষ উৎসবে প্রবাসের ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মও মিলেছিল বাংলার ঐতিহ্যে অবগাহন করতে। বাংলা নববর্ষের ইতিবৃত্ত উপস্থাপন করে যারিফ ইসলাম, ফাবিহা নুরেন লোদী এবং নাভীন আব্দুল্লাহ। তত্ত্বাবধানে ছিলেন শাহরুখ তাসনিম এবং গ্রন্থনায় মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

নববর্ষের আয়োজনে ছিল কাব্যনৃত্য। কবি আল মাহমুদ তারনোলককবিতায় মায়ের গয়না খুঁজে বেড়ানোর গল্পের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে্যর এক অপরূপ দৃশ্যায়ন করেছেন। সেই দৃশ্যায়নের উপস্থাপনা করেছেন নৃত্যশিল্পী শান্তা মনি। আবৃত্তি করেছেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

শিল্পাঙ্গনের দ্বিতীয় সৃজনশীল পরিবেশনা ছিল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ বায়োস্কোপ। মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের রচনা নির্দেশনায় বায়োস্কোপের পরিবেশনায় অংশ নেন যেয়ান ইসলাম, আনিতা চৌধুরী, শাহরুখ তাসনিম, রাফিয়া খান, শান্তা মনি, শফিউল আলম, স্বপন কবির, মুস্তফা মোর্শেদ। গানে কণ্ঠ সঙ্গীত পরিচালনা করেন সৈয়দ ইসলাম টুটুল। এছঅড়াও ছিল আলেখ্য অচেনা বৈশাখ।

নববর্ষ আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি করেন মোহাম্মদ শানু, জান্নাত সুলতানা, শফিউল আলম এবং তাসনিম খান। নৃত্য পরিবেশন করেন লিয়ানা মানহা এবং প্রিয়া ডায়েসের সংগঠন প্রিয়া ড্যান্স একাডেমি।

শিল্পাঙ্গন নববর্ষ আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল সঙ্গীতশিল্পী টিনা রাসেল। তিনি দেড় ঘন্টার ওপর গান গেয়ে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন। গানের মধ্যে ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলসঙ্গীত, হারানো দিনের গান, লোকসঙ্গীত এবং মৌলিক আধুনিক গান।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন শাহীণূর শাণূ, শাহরুখ তাসনিম, নাজনীন মির্জা, সোনিয়া হক এবং সাবরিনা হোসাইন। শব্দ আলোক নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সায়েম।

শিল্পাঙ্গন নববর্ষ আয়োজনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন রাহাত হোসেন, আমর আশরাফ, ফালাহ আহামেদ, এবং আকতার কামাল। অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, গ্রন্থনা, স্মরণিকা সম্পাদনা করেছেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।

Related Posts