নিখেঁাজের ৮ দিন পর ফ্লোরিডার দুই পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিল লিমনের মৃতদেহ উদ্ধার
বাঙালী প্রতিবেদনঃ বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন নিউজ, ফক্স নিউজসহ অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম জানালো, ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১,১০০ দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ক্ষেপণাস্ত্র নাকি চীনের সাথে যুদ্ধ বাধলে ব্যবহারের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে আমেরিকার ক্রুজ মিসাইলের মজুদে টান পড়েছে। হোয়াইট হাউজ অস্বীকার করলেও দুটি স্বাধীন গ্রুপের গবেষণার সূত্রে নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে ইরান যুদ্ধে প্রতিদিন আমেরিকার এক বিলিয়ন ডলারের সামান্য কম ব্যয় হচ্ছে। সিএনএন ২১ এপ্রিলের খবরে এই মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করে বলেছে, যদি আগামী ২—১ বছরের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ হয় তখন এই মজুদ নিয়ে আমেরিকা সংকটে পড়তে পারে। ফক্স নিউজ বলছে, ইরান যুদ্ধে আমেরিকা তার মজুদের প্রায় অর্ধেক প্যাট্রিয়ট মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। তবে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমেরিকার বিপুল সমরাস্ত্র মজুদ আছে।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও সংসদীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। প্রতিটির দাম ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি। এ ছাড়া ১ হাজারেরও বেশি প্রিসিশন স্ট্রাইক ও এটিএসিএমএস স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ৩৮ দিনের যুদ্ধে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংখ্যা আসল চিত্র তুলে ধরছে না। কারণ বড় লক্ষ্যবস্তুতে সাধারণত একাধিকবার আঘাত করা হয়।
যুদ্ধের মোট খরচ নিয়ে হোয়াইট হাউস কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে দুটি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা বলছে, খরচ হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার।
প্রথম দুই দিনেই ৫৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন।
সিনেটের আর্মড ফোর্সেষ কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সিনেটর জ্যাক রিড এই সপ্তাহে বলেন, ‘বর্তমান উৎপাদনের গতিতে আমরা যা ব্যবহার করেছি তা পুনরায় মজুদ করতে বছরের পর বছর লাগতে পারে।’
সিএসআইএসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যান্সিয়ান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ধরনের গোলাবারুদের মজুদ পর্যাপ্ত। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থল হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার গোলাবারুদ যুদ্ধের আগেই কম ছিল এবং এখন আরও কমে গেছে।’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই খবরের পুরো ভিত্তিটাই মিথ্যা। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর অধিকারী। দেশে ও বিশ্বজুড়ে মজুদে পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ আছে।’
জ্যাসম—ইআর নামে পরিচিত দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে। প্রতিটির দাম প্রায় ১১ লাখ ডলার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০টি ব্যবহার হয়েছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, এখন মজুদে আছে মাত্র প্রায় ১ হাজার ৫০০টি।
সিএসআইএসের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘এই যুদ্ধ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত গোলাবারুদ থাকলেও অপারেশন এপিক ফিউরিতে টমাহক ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার অন্য অঞ্চলে, বিশেষত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঝুঁকি তৈরি করেছে।’
ইউরোপেও এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে ন্যাটোর পূর্ব অংশ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদও কমে গেছে।
এশিয়ায় প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন কমান্ডাররা দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছেন। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে দুটি মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা আছেন।
ইন্দো—প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো মঙ্গলবার সিনেটের শুনানিতে মজুদ ঘাটতির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে শুধু বলেছেন, ‘অস্ত্রভান্ডারের একটি সীমা আছে।’ সে সীমা ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এখন।
