ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণায় আমেরিকায় গাঁজা সহজলভ্য হল
বাঙালী প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশের গাঁজার অনুরূপ আমেরিকার মারিজুয়ানা। এতদিন বিভিন্ন স্টেটে এর বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কঠোর ও কোমল আইন থাকলেও বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল আইনে তা সহজতর করার নির্দেশ জারি করল। অর্থাৎ আগে যে আইন ছিল স্কু্যজুল—১ এখন তা নমনীয় করে তৃতীয় ক্যাটেগরিতে আনা হল। এই তৃতীয় ক্যাটেগরি এতটাই নমনীয় যে সংবাদ মাধ্যম এনপিআর একে টাইলেনল কেনা ও ব্যবহারের সাথে তুলনা করেছে। এনপিআর বলছে এই নমনীয় নিয়মের কথা বৃহস্পতিবার ঘোষণা করলেন এটর্নি জেনারেল টড ব্লান্স। এই নতুন নিয়মের কারণে মারিজুয়ানা ব্যবসা থেকে বিপুল অর্থ আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে বলা হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছেঃ কয়েক দশকের পুরোনো ড্রাগ নীতিতে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মারিজুয়ানা বা গাঁজাজাত পণ্যের ওপর থেকে কড়া বিধিনিষেধ শিথিল করে একে তুলনামূলক ‘কম বিপজ্জনক’ ড্রাগ হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রর গাঁজাশিল্পে এক বিশাল ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক জোয়ার আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এত দিন যুক্তরাষ্ট্রে মারিজুয়ানা ‘শিডিউল—১’ ভুক্ত ড্রাগ হিসেবে হেরোইনের সমতুল্য বিবেচিত হতো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এটিকে ‘শিডিউল—৩’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে, যেখানে টাইলেনল বা ব্যথানাশকের মতো ওষুধগুলো থাকে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত ডিসেম্বরের নির্বাহী আদেশের পর ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যানচে এই প্রক্রিয়াকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ব্যবসায়িক সম্ভাবনা
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা বিডিএসএর তথ্যমতে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র বৈধ গাঁজা বিক্রির পরিমাণ ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই নতুন নীতি সেই সম্ভাবনাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। গাঁজা ব্যবসায় উন্নতিতে যেসব সুবিধা ও সম্ভাবনা তৈরি হবে—
১. ট্যাক্স ও মুনাফার হার বৃদ্ধি : গাঁজা ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা ছিল মার্কিন ট্যাক্স কোডের ‘২৮০—ই’ ধারা। এর ফলে তাঁরা ব্যবসায়িক খরচগুলো কর থেকে বাদ দিতে পারতেন না। শিডিউল—৩—এ স্থানান্তরের ফলে কোম্পানিগুলো এখন সাধারণ ব্যবসার মতো কর রেয়াত পাবে, যা তাদের নিট মুনাফা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেবে।
২. ব্যাংকিং ও মূলধন সংগ্রহ: এত দিন ফেডারেল নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় ব্যাংকগুলো গাঁজা ও গাঁজাজাত পণ্য কোম্পানিগুলোকে ঋণ দিতে ভয় পেত। এখন থেকে জেপি মরগান বা গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে অর্থায়নে আগ্রহী হবে। এর ফলে ক্যানোপি গ্রোথ, টিলরে ব্র্যান্ডস এবং ট্রুলিভের মতো বড় কোম্পানিগুলোর মূলধন সংগ্রহ সহজ হবে।
৩. গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি): ওষুধশিল্পে গাঁজার ব্যবহার নিয়ে গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হবে। ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং মানসিক রোগের চিকিৎসায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা এখন অনেক সহজ হবে। এটি বায়োটেক ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর জন্য শতকোটি ডলারের নতুন বাজার তৈরি করবে।
এদিকে ঘোষণার পরপরই ক্যানাবিস কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেয়। মার্কিন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ক্যানাবিস স্টকগুলোর দাম এক লাফে ৬% থেকে ১৩% পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা এই খাতকে এখন ‘হাই রিস্ক’ থেকে ‘হাই গ্রোথ’ সেক্টর হিসেবে বিবেচনা করছেন। যদিও ফেডারেল পর্যায়ে এটি এখনো পুরোপুরি ‘লিগালাইজ’ হয়নি, তবুও এই নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়াকে বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, ‘আমাদের এই আইনকে আরও আধুনিক করতে হবে, যাতে নাগরিকেরা সিবিডি পণ্যের পূর্ণ সুবিধা পায়।’ তবে রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে যা সড়ক দুর্ঘটনা ও মানসিক রোগের ঝুঁকি তৈরি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রর মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ডিইএ) আগামী ২৯ জুন থেকে এই পরিবর্তনের চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে। সেখানে বিশেষজ্ঞ মতামত এবং জনশুনানির ভিত্তিতে ড্রাগের নতুন তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রর ফেডারেল নীতির এই পরিবর্তন কেবল একটি আইনি সংশোধন নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক বিলিয়ন ডলারের শিল্পের জন্য শক্তিশালী ভিত তৈরি করল।
