কনসাল জেনারেলের কাছে স্মারকলিপি হাস্তান্তর || প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রবাসীদের ৯ দাবি

নিউইয়র্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবিদাওয়া পেশ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশী ফোরাম। সংগঠনের নেতারা এসব দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের কাছে স্মারকলিপিটি প্রদান করা হয়। কনসাল জেনারেল স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং প্রবাসীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান। ফোরামের প্রধান ফখরুল আলম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সরাসরি দেখা করে দাবিদাওয়াগুলো দিতে। কিন্তু তার সাথে দেখা করা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি এবারে খুব কম সময়ের জন্য সফরে এসেছেন। তিনি জাতিসংঘের অনুষ্ঠানের বাইরে তেমন কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। আমাদেরকে বলা হয়েছে কনসাল জেনারেলের কাছে দেওয়ার জন্য। তিনি সেটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেবেন। আমরা প্রবাসীদের দাবিগুলো জানাচ্ছি। আশা করছি তিনি বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন এবং দাবিগুলো পূরণ করবেন। স্মারকলিপিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমীপে, প্রবাসী বাংলাদেশীদের কিছু ন্যায্য এবং জরুরী দাবি পূরণের আবেদন জানান। সেখানে বলা হয়, জীবন জীবিকাসহ নানা কারণ আর প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, দেশত্যাগ আসলে রক্তক্ষরণের বিষয়। তারপরও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং দায়বদ্ধতার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন। স্বাধীনতার পর প্রতিটি সরকারই প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছেন, নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি তারা প্রবাসীদের তেমন কোনো স্বার্থই রক্ষা করা হয়নি। আমরা প্রবাসী ফোরামের পক্ষ থেকে প্রতিটি সরকারকে আমাদের প্রাণের দাবি ৯ দফা নানা সময়ে উপস্থাপন করেছি। এখন আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক সরকার। সে সরকার প্রতিষ্ঠায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিরাট ভূমিকা ছিল। তাই আমরা আশাবাদী আপনার সরকার আমাদের দাবীসমূহ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

ফখরুল আলম জানান, আমাদের দাবিসমূহ: ১. জাতীয় সংসদে ও রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রবাসীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা। ২. নিউইয়র্ক—ঢাকা—নিউইয়র্ক রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু। ৩. বাংলাদেশের প্রশাসনসহ বিভিন্ন অফিস—আদালতে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্মানজনক মূল্যায়ন করে সকল কাজ সম্পাদন করার কার্যকর ব্যবস্থা করা। ৪. দেশে বসুন্ধরাসহ ভূমিদস্যুদের হাত থেকে প্রবাসীদের রক্ষা। বিশেষ করে চুক্তি মোতাবেক ক্রয় করা জমি, প্লট, অ্যাপার্টমেন্ট সহজে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। ৫. ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ করা। ৬. দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করা। ৭. প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থে গড়ে ওঠা অর্থনীতির লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার বন্ধ করাসহ পাচারকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। ৮. প্রিয় জন্মভূমি সফরকালে প্রবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৯. বাংলাদেশে প্রবাসীদের ঘরবাড়ি ও স্থাবর—অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষা ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা।

এই দাবি দাওয়া জানিয়েছেন, সংগঠনের উপদেষ্টা: ড. মহসিন পাটোয়ারী, ডা. ইকবাল চৌধুরী, ডা. ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মাফ মিসবাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ মোয়াজ্জেম, অ্যাটর্নি শেখ সেলিম, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, মোহাম্মদ এন. মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ চৌধুরী, শেখ শাহজাহান, ফখরুল আলম, আহ্বায়ক, প্রবাসী বাংলাদেশী ফোরাম, নিউইয়র্ক, ইউএসএ, মেম্বার: আজহারুল হক মিলন, আহসান হাবিব, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, রাব্বি সাইয়েদ, ডা: নাফিসুর রহমান, ডা: নার্গিস রহমান, আবু নাসের, শেখ হায়দার আলী, আব্দুল মতিন, সামছু উদ্দিন আহমেদ শামীম, কাসেম আবুল রাজু, শাহ মোয়াজ্জেম হোসাইন।

প্রবাসী বাংলাদেশী ফোরামের আহ্বায়ক ফখরুল আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখো বাংলাদেশী দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি প্রবাসীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা—বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানবিক কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের নাগরিক অধিকার, সম্পত্তি, ভোটাধিকার, পাসপোর্ট—এনআইডি, কনস্যুলার সেবা এবং দেশে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং প্রবাসীদের জন্য সেবাগুলো আরও সহজ ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। (সাপ্তাহিক বাংলাদেশ)

Related Posts