যুদ্ধের গোলকধাঁধায় মধ্যপ্রাচ্য || ড. জীবন বিশ্বাস
আজকের মধ্যপ্রাচ্যকে প্রচলিত অর্থে একটি যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে বরং সংঘাত—সম্প্রসারণের এক জটিল বৈদ্যুতিক বর্তনীর সঙ্গে তুলনা করাই অধিক যথার্থ। ইরানে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র এশিয়ার তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। ইয়েমেনের একটি হামলা ইউরোপমুখী জাহাজ চলাচলের পথ বদলে দিতে পারে। গাজার যুদ্ধ লেবাননে নতুন করে আগুন জ্বালাতে পারে। আবার সিরিয়ায় একটি বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্র—ইসরাইল ও তুরস্ককে বিপজ্জনক মুখোমুখি অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬—এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও কূটনীতি এই ক্রমবর্ধমান আন্তঃসংযুক্ত যুদ্ধব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর ভাষায় একটি ‘ঊপড়হড়সরপ উ—উধু’ বা ‘অর্থনৈতিক মহাপ্রলয়’—এর হুমকি দিয়েছেন এবং তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য বা সহযোগিতা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থার কথা বলেছেন। কিন্তু প্রকৃত বিপদ শুধু এই নয় যে মধ্যপ্রাচ্যে অনেকগুলো যুদ্ধ চলছে বরং প্রতিটি যুদ্ধ এখন অন্য একটি যুদ্ধের জ্বালানি, প্রযুক্তি অথবা কৌশলগতভাবে বিপজ্জনক সুযোগ সৃষ্টি করছে। এ প্রসঙ্গেই আজকের উপসম্পাদকীয়।
সরাসরি সংঘাত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র—ইরান যুদ্ধ নতুন হলেও, এর রাজনৈতিক শিকড় বহু পুরনো। ১৯৫৩ সালে ইরানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের সরকার উৎখাতে মার্কিন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব ও ৪৪৪ দিনের মার্কিন জিম্মি সংকট, কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা ও ছায়াযুদ্ধ, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি, ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার এবং ২০২০ সালে ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাÑসবই বর্তমান সংঘাতের ইতিহাসের অংশ। এতদিন যে দ্বন্দ্ব প্রতিরোধনীতি, গোপন অভিযান এবং প্রক্সি শক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল, তা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরাসরি রাষ্ট্রে—রাষ্ট্রে যুদ্ধে রূপ নেয়। ইতিহাসের শিক্ষা এখানে অস্বস্তিকরÑ কূটনীতি যখন বারবার বলপ্রয়োগের দুই অধ্যায়ের মাঝখানের বিরতিমাত্র হয়ে দাঁড়ায়, তখন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শান্তির সেতু না হয়ে অসমাপ্ত যুদ্ধের ক্ষণিক বিরতিতে পরিণত হয়।
হরমুজ প্রণালি দেখিয়ে দিচ্ছে কেন এই যুদ্ধকে আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা বলা যায় না। ইরান সেখানে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে সীমিত করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি নৌবাণিজ্যের বিরুদ্ধে অবরোধ কার্যকর করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঊহবৎমু ওহভড়ৎসধঃরড়হ অফসরহরংঃৎধঃরড়হ (ঊওঅ)—এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে পেট্রোলিয়াম পরিবহন ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের দৈনিক ২১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মাত্র ৪.৯ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বের প্রায় এক—পঞ্চমাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা খঘএ—ও এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছিল। সামুদ্রিক নৌযান লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছেÑসংযুক্ত আরব আমিরাতের এমন অভিযোগ, যা তেহরান অস্বীকার করেছেÑএর পর টঅঊ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে। ফলে জ্বালানি—নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি, জাহাজের বীমাব্যয় ও বিমান চলাচলের বিঘ্ন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তারপরও এই অস্থিরতার কেন্দ্রীয় মাধ্যাকর্ষণক্ষেত্র রয়ে গেছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন সংঘাত। এর আধুনিক ইতিহাস ১৯৪৮ সালের আরব—ইসরাইল যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনি নাকবা, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজায় ইসরাইলি দখল, অসলো শান্তিপ্রক্রিয়ার অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, ২০০৭ সালে গাজার ওপর হামাসের নিয়ন্ত্রণ এবং ৭ অক্টোবর ২০২৩—এর বিপর্যয়কর সহিংসতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। সেদিন হামাস—নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলে প্রায় ১২০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে। এর পর ইসরাইলের সামরিক অভিযান গাজায় অকল্পনীয় ধ্বংস ডেকে আনে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭৩,০৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৭৩,৩৬৮ জন আহত হয়েছেন। আগস্ট নাগাদ গাজার প্রায় ২.১ মিলিয়ন মানুষের অধিকাংশই ভূখন্ডটির অর্ধেকেরও কম অংশে গাদাগাদি করে অবস্থান করছিল।
২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর পরও যুদ্ধ প্রকৃত অর্থে শান্তিকে জায়গা দেয়নি। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই ইসরাইলি হামলা চলছে। ১৯ আগস্ট গাজার একটি পুলিশ স্টেশনে বিমান হামলায় চিকিৎসা কর্মকর্তাদের হিসাবে নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। পাঁচ বছরের শিশু হিন্দ রজবের মৃত্যু জবাবদিহির আরেকটি মর্মন্তুদ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই সপ্তাহে স্বীকার করেছে যে ২০২৪ সালে যে গাড়িতে হিন্দ ও তাঁর স্বজনেরা নিহত হন, সেটিতে তাদের সেনারা গুলি চালিয়েছিল। এ নিয়ে একটি ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে। এদিকে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভূখন্ডগত ও রাজনৈতিক ভিত্তিকে ক্রমেই ক্ষয় করছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১০৭টি ফিলিস্তিনি জনপদ ও আবাসিক এলাকা থেকে ৫৬০০—এর বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন; ৩৮টি জনপদ সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিনিশূন্য হয়েছে।
লেবানন আরেকটি ভূখন্ড, যেখানে ইতিহাস যেন বারবার নতুন পোশাকে ফিরে আসে। ১৯৭৫—১৯৯০ সালের লেবাননের গৃহযুদ্ধ ও ১৯৮২ সালের ইসরাইলি আগ্রাসনের পটভূমিতে হিজবুল্লাহর উত্থান। ইরান সংগঠনটিকে অর্থ ও সামরিক সহায়তা দেয়। ২০০০ সালে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের অধিকাংশ এলাকা থেকে সরে গেলেও ২০০৬ সালের ইসরাইল—হিজবুল্লাহ যুদ্ধ কেবল পারস্পরিক প্রতিরোধের ভারসাম্য সৃষ্টি করেছিল, মীমাংসা নয়। অক্টোবর ২০২৩—এর পর হিজবুল্লাহ গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে উত্তর সীমান্তে আবার যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলে; ২০২৪ সালে ইসরাইল হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা করে এবং দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালায়। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুরই থেকে যায় এবং ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র—ইসরাইলের ইরান আক্রমণের পর যুদ্ধ আবার ছড়ায়। সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে আবারও প্রাণহানি ঘটেছে। ফলে লেবানন আজও দুর্বল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং একটি আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র সংগঠনের কৌশলগত সিদ্ধান্তের মাঝখানে বন্দী।
ইয়েমেন একই সংকটের আরেক প্রতিচ্ছবি। হুথিরা ২০১৪ সালে সানার অধিকাংশ এলাকা দখল করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৌদি আরব ২০১৫ সালে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০২২ সালের জাতিসংঘ—সমর্থিত যুদ্ধবিরতি বৃহৎ আকারের যুদ্ধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমালেও কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান দিতে পারেনি। এখন আবার হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সৌদি স্থাপনা এবং লোহিত সাগরের নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি সংগঠনটি জাজানে আরামকো শোধনাগার এবং ইয়েমেন উপকূলে সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। এখানেই ভূগোল ভূরাজনীতিতে পরিণত হয়। ইধন বষ—গধহফবন কেবল ইয়েমেনের পাশের একটি জলপথ নয়—ঊওঅ—এর হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিদিন ৮.১ মিলিয়ন ব্যারেল পেট্রোলিয়ামজাত তরল এই পথ দিয়ে গেছে। অতএব ইয়েমেনের একটি গৃহযুদ্ধও বিশ্বব্যাপী সরবরাহ—শৃঙ্খলের সংকটে পরিণত হতে পারে।
এই আন্তঃসংযুক্ত অস্থিতিশীলতার আরেকটি প্রধান স্তম্ভ সিরিয়া। ২০১১ সালের গণবিক্ষোভ যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছিল, তাতে রাশিয়া, ইরান, হিজবুল্লাহ, তুরস্ক, কুর্দি বাহিনী, যুক্তরাষ্ট্র, জিহাদি গোষ্ঠী এবং ইসরাইলÑসবাই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে পড়ে। ডিসেম্বর ২০২৪—এ বাশার আল—আসাদের পতন একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটালেও সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিযোগিতার অবসান ঘটায়নি। ২০২৬ সালের আগস্টে আবু আল—দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলাÑযার পেছনে সম্ভাব্য তুর্কি সেনা মোতায়েনের আশঙ্কার কথা ইসরাইল বলেছে, এখন আরেক বিপজ্জনক বিভাজনরেখা উন্মোচিত করেছে। তুরস্ক এমন মোতায়েনের কথা অস্বীকার করেছে। মার্কিন দূত হামলাটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলেছেন এবং ওয়াশিংটন ইসরাইল, সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সংঘাত এড়াতে একটি বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন।
অতএব মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলোকে ‘অন্তহীন’ বলে মনে হওয়ার কারণ কোনো অপরিবর্তনীয় বা তথাকথিত সহিংস মধ্যপ্রাচ্যীয় মানসিকতা নয়। এমন ব্যাখ্যা ইতিহাসের প্রতি অন্যায় এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অলসতা বলেই বিবেচিত হবে। গভীরতর সংকটটি হলো এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা বারবার অভ্যন্তরীণ বিরোধকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধে পরিণত করে এবং বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে স্থানীয় সংঘাতে নামিয়ে আনে। ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রহীনতা, ইসরাইলের নিরাপত্তা—আশঙ্কা, ইরান—যুক্তরাষ্ট্র বৈরিতা, সুন্নি—শিয়া ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, দুর্বল আরব রাষ্ট্র, রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র শক্তি, বিতর্কিত সীমান্ত এবং বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপÑসবকিছু আজ একে অন্যকে ‘শক্তিশালী এবং দুর্বল’ করছে। প্রত্যেক পক্ষই নিজের কর্মকান্ডকে ‘প্রতিরোধ’ বলে ব্যাখ্যা করে কিন্তু সম্মিলিত ফল হচ্ছে আরও গভীর নিরাপত্তাহীনতা।
এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ আরেকটি মহাসম্মেলন এবং পরে বিস্মৃত হয়ে যাওয়া ঘোষণাপত্র হতে পারে না। শান্তির জন্য প্রথমেই আলাদা করতে হবে সেই যুদ্ধগুলোকে, যেগুলোকে ধীরে ধীরে একটি বৃহৎ সংঘাতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে: (১) গাজায় টেকসই সমঝোতার সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ; (২) পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণে সংযম; (৩) এমন একটি কার্যকর ইসরাইল—লেবানন নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা লেবাননের রাষ্ট্রকেই পুনরায় কর্তৃত্ব দেয়; (৪) অনন্ত সৌদি—হুথি প্রতিরোধনীতির পরিবর্তে ইয়েমেনে রাজনৈতিক মীমাংসা; (৫) আলোচনার মাধ্যমে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং (৬) সর্বোপরি পারমাণবিক ঝুঁকি, সামুদ্রিক চলাচলের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে একই কাঠামোয় এনে একটি যুক্তরাষ্ট্র—ইরান চুক্তি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পরিকল্পনার অভাব নেই। অভাব এমন এক রাজনৈতিক স্থাপত্যের, যা পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরও অক্ষত থাকতে পারে। যতদিন কূটনীতি প্রতিরোধনীতির চেয়ে শক্তিশালী না হবে এবং সামরিক সুবিধার চেয়ে রাজনৈতিক বৈধতা বেশি মূল্যবান হয়ে না উঠবে, ততদিন মধ্যপ্রাচ্য তার অসমাপ্ত ইতিহাসকে বিশ্বের ভবিষ্যতের মধ্যে রপ্তানি করতেই থাকবে।
