বিল পাশ হওয়া সত্ত্বেও স্কুলের প্যারা—প্রফেশনালদের জন্য || $১০,০০০ বোনাসের বিরুদ্ধে মেয়রের মামলা
বাঙালী প্রতিবেদনঃ গত ১৬ জুলাই নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে যখন পাবলিক স্কুলের প্যারা প্রফেশনালদের এককালীন ১০,০০০ ডলার বোনাস দেয়ার বিল নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখন বাইরে সিঁড়িতে তাদের সমর্থকরা বিলটি পাশ করার দাবিতে র্যালি করছিল। বিলটি পাশ হয়। সে সময় খবরও প্রকাশ করেছিল সাপ্তাহিক বাঙালী। কিন্তু বিলটি কার্যকর করতে হলে মেয়রের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এত বিপুল ভোটে বিলটি পাশ হয় যে তাতে মেয়রের ভেটো দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই বিলটির সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিল ইউনাইটেড ফেডারেশন অব টিচার্স বা ইউএফটি।
কিন্তু বুধবার খবর এলো, মামদানি প্রশাসন এই পাশ হওয়া বিলটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন যাতে তা কার্যকর করা না যায়। মামলার আর্জিতে বলা হয়, সিটি কাউন্সিলে পাশ হওয়া এই বিলটি স্টেট আইনের পরিপন্থী। মামলায় আরো বলা হয় বিলটি পাশে সিটি কাউন্সিলের কোনো এক্তিয়ার নেই। রাজনীতিকরা এই বিল পাশ করে একটি খারাপ নজির সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া এই বিল পাশের কারণে উক্ত বৃহৎ অংকের পেমেন্ট দিতে ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনকে এবং সর্বোপরি নিউইয়র্ক সিটিকে কঠিন সমস্যায় পড়তে হবে। বাজেট ঘাটতি ছাড়াও এই অর্থ ট্যাক্সদাতাদের কঠোর পরিশ্রমের অর্থ।
মামলার আর্জিতে আরো বলা হয়েছে, খারাপ দৃষ্টান্তটি হচ্ছে প্যারা প্রফেশনালদের মত সিটির অন্য কর্মচারীরাও ভবিষ্যতে এইরকম বোনাস দাবি করবে। সিটি কাউন্সিল এই বিলটি পাশ না করে বরং ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের কর্মকর্তাদের এই বোনাসের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে টেবিলে বসে দর কষাকষি করার সুযোগ দিতে পারতেন।
উল্লেখ্য জুলাই মাসে সিটি কাউন্সিলে বিলটি পাশের পরপরই মেয়র জোহরান মামদানি বলেছিলেন, এই বিলটি সরাসরি ‘টেইলর ল’এর ভায়োলেশন’। এই টেইলর ল’তে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক কর্মচারীরা তাদের বেতন ও বেনিফিট বাড়ানোর দাবি তুলতে পারবে। তবে সেই দাবি পাশ করা সিটি কাউন্সিলের কাজ নয়। পক্ষান্তরে সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন এবং কাউন্সিল সদস্য কারমেন ডি লা রোজা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই বিলটি উক্ত আইনের আওতায়ই করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তারা দুজন এই বিলটি উত্থাপন করেন সিটি কাউন্সিলে। বিবৃতিতে তারা বলেন, বাইপার্টিজান ভিত্তিতে প্রত্যেক কাউন্সিল সদস্য এই বিলের পক্ষে ভোট দেন।
স্পিকার মেনিন এবংং ইউনাইটেড ফেডারেশন অব টিচার্স ইউনিয়ন সভাপতি মাইকেল মালগ্রু বলেন, সিটি কাউন্সিল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিলটি পাশ করেছে যাতে টেইলর ল লংঘন না হয়। তারা আশা করেন আদালত বিলটির পক্ষে রায় দেবে।
