যেভাবে উল্টে গেল || ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়
ডয়চে ভেলে প্রতিবেদনঃ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে চালানো গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতা—কর্মী আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ—আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে সবাইকে খালাস দেন। পরের বছর রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে খালাসের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতভাবে ওই রায় দেন।
১৪ বছর পর এ সংক্রান্ত মামলার (হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইন) মামলার রায় দেন বিচারিক আদালত। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঘোষণা করা সেই রায়ে বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এছাড়া তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয় অন্য ১১ জনকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ—আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে সবাইকে খালাস দেন। পরের বছর রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে খালাসের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতভাবে ওই রায় দেন।
আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়, ডেথ রেফারেন্স খারিজ, আসামিদের আপিল মঞ্জুর এবং বিচারিক আদালতের দোষী সাব্যস্ত করা ও দন্ডাদেশ বাতিল করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা ন্যায়সংগত। তথ্যপ্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও আইনি দিক পর্যালোচনা করে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে কোনো দুর্বলতা বা বেআইনি কিছু পাওয়া যায়নি।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। তখন মামলার তদন্ত নিয়ে নানা বিতর্ক উঠেছিল। ২০০৭ সালে এক—এগারোর পটপরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা দুটির (হত্যা ও বিস্ফোরক) তদন্ত নতুনভাবে শুরু হয়। ২০০৮ সালে সিআইডি হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় ২২ জনকে আসামি করে আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে, এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল—১ মামলা দুটির রায় দেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছিল।
সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত বিচারকে অবৈধ ঘোষণা করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করেন। এর ফলে সব আসামি খালাস পান।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছিল, নিহত ব্যক্তিদের প্রতি ন্যায়বিচারের জন্য এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। যথাযথ ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে তদন্তের পদক্ষেপ নিতে মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উচিত বলেও পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আদেশের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অংশটি বাতিল করা হয়।
