কফিন দেশে পাঠানোর কথা || খোকনের মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার

নিউইয়র্কঃ যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই। তার সন্ধান পাওয়া গেছে, তবে তিনি ফিরেছেন লাশ হয়ে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। ৫ দিন ধরে তিনি নিখেঁাজ ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর বুধবার, ৭ অক্টোবর নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। তার বয়স হয়েছিলো ৫৭ বছর। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। কাজী খোকনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার ও বন্ধুমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি একাকী বসবাস করতেন কুইন্সের কিউ গার্ডেনের একটি ভাড়া বাসায়। তার দেশের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরা জেলার সদর উপজেলার বগিয়া ইউনিয়রের পকুরিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম কাজী জহিরুল হক ও মাতার নাম শুকুরুন নাহার। মা—বাবা উভয়ই মৃত।  ৯ ভাইবোনের মধ্যে কাজী খোকন ৬ নম্বর ছিলেন। খবর ইউএনএ’র। 

ড. সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত ৩ অক্টোবর শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজিজুল হক খোকন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজের দিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে সিটির একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিউইয়র্কে তার নিজের স্বজন ও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ ব্রুকলিনের আই ৫৯৯ উইনথ্রোপ স্ট্রিট চীফ মেডিকেল একজামিনার কার্যালয়ের ফিউনারেলে পাঠিয়ে দেয়।  সেখানেই তার মরদেহ ছিলো।

ধারণা করা হচ্ছে, বাসা থেকে বের হয়ে কোথাও যাওয়ার পথে কাজী পথিমধ্যে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। পরবতীর্তে কে বা কারা তাকে জ্যামাইকা মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

কাজী আজিজুল হক খোকন প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্টে্র বসবাস করছিলেন। শারীরিকভাবেও কিছুটা অসুস্থ ছিলেন তিনি। জ্যাকসন হাইটসের অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন খোকন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ জানান, গত ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে কর্মস্থল জ্যাকসন হাইটসের অবকাশ স্টোর থেকে বাসায় ফেরার পর তার কোনো খেঁাজ মিলছিলো না। শুক্রবার ও শনিবার অবকাশ—এর কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন রানা একাধিকবার ফোন করেও কোনো খেঁাজ না পাওয়ায় শনিবার রাতে কয়েকজন তার বাসায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় রুমের দরজা খুললে রুমের লাইট অফ আর ফ্যান চালু দেখ্ যায়। এসময় সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম উপস্থিত ছিলেন এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। জুয়েল বলেন, বাসার মালিক জানান— গত দুদিন কাজী খোকন বাসায় আসেননি এবং খাবারও খাননি। ধারণা করা হচ্ছে রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্যামাইকা হসপিটাল সেন্টারে মারা যান। পরবতীর্তে পুলিশের সহযোগিতায় তার সন্ধান মেলে। 

জুয়েল আহমেদ বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও তার নিখেঁাজ হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যুর খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজনীতির উর্ধ্বে দলমত নির্বিশেষে কমিউনিটির সবাই যে সহযোগিত করেছেন, সহমর্মিতা দেখিয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বলেন, সহমর্মিতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘সেলিম—আলী’ ও ‘কুনু—ফিরোজ’ পরিষদেও প্রার্থীগণ সহ নেতৃবৃন্দ।   

এদিকে কাজী খোকনের নামাজে জানাজা শুক্রবার, ৯ অক্টোবর বাদ জুমা জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ছাড়াও দলীয় নেতা—কমীর্ অংশ নেন। তার মরদেহ শুক্রবার রাতের ফ্লাইটে বাংলাদেশে প্রেরণ করার কথা।

বাংলাদেশ সোসাইটি কাজী খোকনের মরদেহ দেশে প্রেরণ করাসহ তার যাবতীয় খরচ বহন করছে বলে জানিয়েছেন সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।

Related Posts