মুজিব ইরমের কবিতা
বীজ বপনের কলাকৌশল
পুঁতে রাখি জবা কুসুমের ডাল...
আমি তো কেবল
ফুলগন্ধ লতাপাতা আঁকিয়াছি
শব্দবাক্যে
ছন্দমিলে
নিরিহ নির্দোষ..
এই সব সহজ সরল ফুল গাছে
পাখি এসে বসে
গান গায়..
এই সব ফুল গাছে
রং রূপ আনন্দ ছড়ায়..
আড়ালে হয়তো তুমি আছো
যেই রূপ পাতার আড়ালে
মুচকন্দ ফুল সুগন্ধ ছড়ায়..
কোথাও তোমার হাসিটুকু লেগে আছে
ফুটে আছে তোমার লাবণ্য
চোখের কটাক্ষ..
এই যে ফুলের চাষ করিয়াছি
রোপণ করেছি বীজ চারা ডাল
রাত জেগে জল ঢালি
কেটেছেটে দিই
পরিচর্যা করি
কালি ও কলমে
কম্পুস্ক্রিনে
খাতার পাতায়
খরচ করেছি ঘুম..
হয়তো বা মরা ডালে একদিন ফুটিবে কুসুম।
কাজা
কতো কাল এই হাতে উঠেনি বাঁশুরি
তুমিও গিয়েছো চলে সখিসনে
অন্য কোনো ঘাটে
কান্না করে যমুনার জল..
কতোকাল ওঠেনি তো
দেহকাঁপা
মাদলের ঢেউ
ভেজেনি তো খোপা
জলনৃত্যে ভাঙ্গেনি তো যমুনার বুক..
আহা জ্বর
পরঘর
পরের বসত..
কী এক ঘোরের মাঝে কাটে দিন
শব্দসুর হয়ে আছে কাজা
তাম্বুল রাতুল আর হলো না তো অধর পরশে..
ডাক
আর কিছু নয়
একবার শুধু নাম ধরে ডাক দিতে চাই
গলা খুলে
বিলম্বিত লয়ে
তুমি শুধু উত্তরে জানিও—আছি..
মনে হলে
তুমিও ডাকিও
এই কানে পৌঁছে যেন মিষ্টি ডাক
তোমার সুরেলা গলা
নিজস্ব জবান..
দূর থেকে
আমি বড় তিয়াসি রয়েছি
মনে বা চায়
আমারে ডাকিও তুমি বিলুপ্ত ভাষায়।
পড়
কী আর করিবো আমি..
ফুল ফোটে
সুগন্ধ ছড়ায়
দেশি ও বৈদেশি
বনে বনে মনে মনে..
তন কাঁপে
মন কাঁপে
আমি তারে লিখে রাখি
নানা রূপে
নানা ঢঙে
নানা অভিধায়..
কাকুতি মিনতি করি
ভাইবন্ধু সখিগণে
পড়..
গন্ধ কই
রূপ কই
সকলে জিগায়..
আমার ব্যর্থতা আমি লিখে রাখি পাতায় পাতায়।
ক্ষমা প্রার্থনা পূর্বক
আর আমি উজাবো না
আমারে করিও ক্ষমা উজাইয়ের মাছ
ভুলে গেছি নয়া পানি
উজানের ডাক
আমি এক ফাঁদে পড়া রঙ্গিন প্রজাতি
আর আমারে ডাকিও না
জলস্রোত
সর্বনাশী ডাক..
জন্মবোবা
জন্মকালা
জন্মান্ধ কবিতাগুলো
রেখে যাচ্ছি তোমার সমীপে
তারে তুমি শুশ্রƒষা করিও
তারে তুমি আপন করিও।
যেই দেশে পাখিফুল ফোটে
যেই দেশে পাখিফুল ফোটে
সেই দেশে চলো মন
সখি দরশনে।
যেই দেশে রাঙা হয় অশোক পলাশ
সেই দেশে চলো মন
শান্ত করো হিয়া
সখি পরশনে।
যেই দেশে ফোটে পুষ্প চামেলী বকুল
সেই দেশে চলো মন
জুড়াও তাপিত দেহ
পুষ্প বরিষণে।
যেই দেশে ফোটে ফুল
লজ্জাবতী হয়
চলো মন সেই দেশে
কিসের ভাবনা
সখিসনে সেই দেশে গুছিবে যাতনা।
