ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বিশ্বশান্তি? ড. জীবন বিশ্বাস

ইরানের সংগে আমেরিকাইসরাইলের যুদ্ধ যেন চাপা আগুনের মত ক্ষণে ক্ষণে ফুঁসে উঠছে। গণিত শাস্ত্রের সূত্রমতে আলোচনা, যুদ্ধ এবং শান্তিÑ এই তিনটি প্রসঙ্গ নিয়েপারমিউটেশনএবংকম্বিনেশনকরলে মোট ২৭টি ( পাওয়ার ) সংমিশ্রণ পাওয়া যেতে পারে। এতগুলো বিকল্প সমাধানের কোনটি শান্তি আনতে পারে, সে বিচারের জন্য গণিতের আরও নতুন সূত্রের প্রয়োজন অনিবার্য। আর এর মধ্যে যদি পাকিস্তান যুক্ত হয় শান্তির জন্য মধ্যস্থতা করতে, তাহলে হয়তো গণিত শাস্ত্রই বেঁকে বসবে তার গাণিতিক হিসেব নিকেশ পুরোপুরি বন্ধক রেখে। পাকিস্তানকে শান্তির জন্য মধ্যস্থতা করতে ডাকা আর একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে মুখরোচক খাদ্য পাহারা দিতে বলার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া দুস্কর। এই মাত্র কয়েকদিন আগে ইরানের সংগে যাতে শান্তিচুক্তি করা যায়, সেজন্য ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তথাকথিতচুক্তি জন্য চুক্তিকরা হয়েছিল। ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে। ভবিষ্যতের শান্তি চুক্তির জন্য ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অস্থায়ী চুক্তিটি যেন হঠাৎ করেই কর্পূরের মত উবে গেল। বিশ্বের ওয়াকেবহালমহল এতে মোটেই আশ্চর্য হননি, তারা শুধুমাত্র বিখন্ডনের জন্য আশংকিতচিত্তে অপেক্ষা করছিলেন। এসব প্রসঙ্গ নিয়েই আজকের উপসম্পাদকীয়।

ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডামবা সমঝোতা স্মারকটি পরিকল্পিত হয়েছিল যুদ্ধ কূটনীতির মধ্যবর্তী একটি জরুরি সেতু হিসেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি হয়ে উঠল ভূরাজনৈতিক ঝড়ের পথে নির্মিত কাগুজে আশ্রয়। পাকিস্তানের কয়েক সপ্তাহব্যাপী মধ্যস্থতার পর ২০২৬ সালের জুনে স্বাক্ষরিত চৌদ্দ দফার এই কাঠামো সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যকার সংঘাত কমিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল এবং একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি প্রণয়নের জন্য ষাট দিনের আলোচনাকাল নির্ধারণও করেছিল। অথচ জুলাইয়ের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌঅবরোধ আরোপ করে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা শুরু করে; জবাবে ইরান আমেরিকান মিত্রদেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং সামুদ্রিক চলাচল পুনরায় বিপর্যস্ত করে। কূটনীতিকরা চুক্তিটিকে পুনরুজ্জীবিত করার আশা পোষণ করলেও কার্যত স্মারকটি এখন অকার্যকর।

চুক্তিটির দুর্বলতা তার কাঠামোর মধ্যেই দৃশ্যমান ছিল। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা নির্মাণ না করার অঙ্গীকার করে এবং পরবতীর্ আলোচনা পর্যন্ত তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিদ্যমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখতে সম্মত হয়। ওয়াশিংটন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনারও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেরও অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়। এসব অঙ্গীকার হয়তো একেবারে তাৎপর্যহীন ছিল না। কিন্তু ইউরেনিয়ামের মজুত, নিষেধাজ্ঞার স্থায়ী অবসান, সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তানিশ্চয়তার মতো সবচেয়ে বিরোধপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সমাধান না করে সেগুলো ভবিষ্যতের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। ফলে স্মারকটির তথাকথিতশান্তিনির্ভর করছিল সেই আলোচনার ওপর, যা পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সফল হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল সবচেয়ে ক্ষীণ। তাছাড়া সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালের তথাকথিত ইসলামিকবিপ্লবের ৪৭ বছর পরে ট্রাম্পনির্দেশিত এই যুদ্ধে ইরানের লাভের অঙ্কটাই বেশী। কারণ চুক্তির মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার মত অত্যন্ত নাজুক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর অন্যদিকে, যে হরমুজ প্রণালী সবসময়ই খোলা ছিল, সেটি খুলে দেওয়ার হাস্যকর সম্মতি ছাড়া ইরানের তেমন কোনো ছাড়ই দিতে হয়নি।

পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নির্বাচন বিস্ময়কর হলেও এটি একেবারেই যে অযৌক্তিক ছিল তা বোধ হয় বলা ঠিক হবে না। ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটন তেহরানÑউভয়েরই কার্যকর সম্পর্ক ছিল। পাকিস্তানে কোনো বৃহৎ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল না, তবে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরেই আমেরিকা পাকিস্তানকে সহায়তা দিয়ে আসছিল প্রধানত ভারতকে অস্বস্তিতে রাখার জন্য। কারণ ভারতের কারণেই অতি সহজে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৫৬৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তাছাড়া, পাকিস্তান এমনিতেই সর্বতোভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র, সেদিক থেকেও আঞ্চলিক যুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানোর তীব্র প্রয়োজনও ছিল পাকিস্তানের। যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থও পাকিস্তান প্রতিনিধিত্ব করে এবং পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক সমীকরণের মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে একটি জটিল সম্পর্ক বজায় রেখেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রগুলোর নিরপেক্ষ অবস্থান ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। কাতার, বাহরাইন কুয়েতে মার্কিন সেনাঘাঁটি থাকায় তারা সংঘাতের সময় প্রত্যক্ষ বা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। সেদিক থেকে হয়তো পাকিস্তান একটু সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। 

কিন্তু প্রবেশাধিকার আর কার্যকর প্রভাব এক বিষয় নয়। আলোচনার সময় রয়টার্স জানিয়েছিল, পাকিস্তান যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে পারলেও কোনো পক্ষকে ছাড় দিতে কিংবা দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে বাধ্য করার ক্ষমতা তার ছিল না। এই সীমাবদ্ধতাই শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। অস্তিত্বসংকটমূলক কোনো সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর কাজ শুধু বার্তা বহন নয়; তাকে চুক্তি মানা হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে হয়, লঙ্ঘনের জন্য রাজনৈতিক বা বস্তুগত মূল্য আরোপ করতে হয়, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হয় এবং চুক্তির বাইরের রাষ্ট্রগুলোর আচরণও সমন্বয় করতে হয়। পাকিস্তান এককভাবে এসবের কোনোটি করার যোগ্যতা রাখে না। পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারি হিসেবে নির্বাচনের ঘটনাকেক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাবার পাহারা দেওয়ার দায়িত্বদেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা ভাষাগতভাবে হয়তো কঠোর, কিন্তু উপমাটি একটি বাস্তব বৈপরীত্যকে নির্দেশ করেÑনিজের অস্তিত্বসংকট সামলাতে ব্যস্ত একটি রাষ্ট্রকে তার চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী সামরিক পক্ষগুলোর সমঝোতা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া যে কতটা বাতুলতা তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। 

পাকিস্তান গভীরভাবে একটি ভঙ্গুর নিরাপত্তাসংকটে জর্জরিত দেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি কর্মসূচির অধীনে দেশটির অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক কিছু সীমিত স্থিতিশীলতা এলেও কাঠামোগত দুর্বলতা ভয়াবহ। আইএমএফের সদস্য হওয়ার পর পাকিস্তান পঁচিশটি ঋণব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে; ২০২৬ সালের মার্চে সংস্থাটির কাছে দেশটির বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল . বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, নিম্নমধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী পাকিস্তানের দারিদে্র্যর হার ২০১৯ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে ৪৫. শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯. শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের দ্বারা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে স্থান পায়; আর পাকিস্তানের একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা শুধু ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই সহিংসতাসংশ্লিষ্ট ৮১৩টি মৃত্যুর হিসাব দিয়েছে। এসব সংকট কোনো দেশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার অযোগ্য করে না; তবে এগুলো কূটনৈতিক মনোযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং বহিরাগত আর্থিক চাপ থেকে স্বাধীন থাকার সামর্থ্যকে সীমিত করে নিঃসন্দেহে। 

তবে বৃহত্তর ব্যর্থতাটি শুধু পাকিস্তানের ভঙ্গুরতার মধ্যে নয়; বরং সমঝোতা স্মারকের রাজনৈতিক নকশায়ও নিহিত ছিল। বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গে যার সামরিক পদক্ষেপ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, সেই ইসরাইল স্মারকটির স্বাক্ষরকারী পক্ষ ছিল না। তদুপরি, কোনো বহুপক্ষীয় বাস্তবায়ন কমিশন গঠন না করেই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দায়িত্বকে লেবাননের সংঘাত, ইসরাইলি অভিযান এবং হরমুজ প্রণালির নৌচলাচলের মতো প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। চুক্তির পরপরই নিষেধাজ্ঞাছাড়, জব্দকৃত সম্পদ, পরমাণু পরিদর্শন এবং সামুদ্রিক পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন তেহরান পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা দিতে শুরু করে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে; ওয়াশিংটন অভিযোগ করে যে তেহরান জাহাজে হামলা চালাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালি নিঃশর্তভাবে খুলে দিতে অস্বীকার করছে। একাধিক সরকার, সশস্ত্র প্রক্সি, বাণিজ্যিক জাহাজ প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক কমান্ড জড়িত একটি সংঘাতকে শুধুমাত্র দ্বিপক্ষীয় স্মারকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা, তাও আবার একেবারে অভিজ্ঞতাহীন ব্যর্থ রষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়, সম্ভব ছিল না।

পাকিস্তানের ঐতিহাসিক কর্মকান্ডও তার নৈতিক কর্তৃত্বের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের স্থানীয় সহযোগীরা গণহত্যা, ধর্ষণ পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতা এবং অন্যান্য গুরুতর নৃশংসতা সংঘটিত করেছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের ত্রিশ লাখ মানুষ নিহত হন। অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার বাঙালি নারী কিশোরীর সংখ্যা অন্যূন পাঁচ লাখ। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তান বাংলাদেশের জনগণ বেঁচে থাকা নির্যাতিতদের প্রত্যাশিত পূর্ণাঙ্গ দ্ব্যর্থহীন রাষ্ট্রীয় ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। মধ্যস্থতা করতে কোনো দেশের ইতিহাস নিষ্কলঙ্ক হওয়া হয়তো অপরিহার্য নয়; কিন্তু অমীমাংসিত অপরাধ একটি রাষ্ট্রের শান্তির নীতিনিষ্ঠ রক্ষক হিসেবে আত্মপ্রকাশের নৈতিক শক্তিকে অবশ্যই দুর্বল করে।

ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডামের পতনকে হয়তো একটি ইরানি আক্রমণ কিংবা একটি মার্কিন পাল্টা হামলা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, কিন্তু এর ভিত্তিই ছিল ত্রুটিপূর্ণ: প্রয়োগযোগ্য বাধ্যবাধকতার জায়গায় ছিল সাময়িক প্রতিশ্রুতি; মূল পারমাণবিক প্রশ্নগুলো স্থগিত রাখা হয়েছিল; ইসরাইল দলিলের বাইরে ছিল; সামুদ্রিক বাস্তবায়নব্যবস্থা ছিল অস্পষ্ট; আর চুক্তি পালনের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কিংবা কৌশলগত ক্ষমতা পাকিস্তানের ছিল না। ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন মার্কিন হামলা, ইরানের পাল্টা অভিযান এবং আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি প্রমাণ করে যে স্মারকটি কোনো স্থায়ী নিষ্পত্তি নয়Ñছিল মাত্র যুদ্ধের মধ্যবর্তী ক্ষণিক বিরতি। বিশ্বের প্রায় একপঞ্চমাংশ তেল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই জলপথ আবারও যুদ্ধক্ষেত্র দরকষাকষির অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পাকিস্তানকে নির্বাচন করার পেছনে হয়তো যুক্তি দেয়া যেতে পারে কিন্তু তাকে চুক্তির প্রধান নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে বিবেচনা করা ছিল একটি কৌশলগত ভুল। একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থায় পাকিস্তানের যোগাযোগসুবিধার সঙ্গে ওমানের সুপ্রতিষ্ঠিত নেপথ্য কূটনীতি, কাতারের আর্থিক রাজনৈতিক প্রভাব, জাতিসংঘের বৈধতা, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার যাচাই এবং ইসরাইলসহ প্রত্যেক প্রধান যুদ্ধপক্ষের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ যুক্ত করা ছিল অত্যন্ত জরুরী। সেখানে চুক্তি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা, ধাপে ধাপে পারস্পরিক বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ এবং যাচাইয়ের আগে কোনো পক্ষকে অপরিবর্তনীয় সুবিধা না দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল। ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডামের মাধ্যমে পাকিস্তান হয়তো ক্ষণিকের জন্য সম্ভাবনার একটি দরজা খুলেছিল; কিন্তু গোটা ভবনটিকে ধরে রাখার শক্তি তার ছিল না। প্রতিপক্ষকে একই কক্ষে আনার সামর্থ্যকে তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বলে ভুল করলেই কূটনীতি শান্তির বদলে আরেকটি যুদ্ধবিরতির বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

বর্তমান পৃথিবীতে বিশ্বশান্তি জরুরী। আর সেই শান্তির আলোচনায় পাকিস্তানের মতো একটি ব্যর্থ দেশকে মধ্যস্থতাকারি হিসেবে রাখা কূটনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছু নয়।



Related Posts