১ বিলিয়ন ডলার আয় ছাড়িয়ে গেছে ‘মাইকেল’
x
‘মাইকেল’ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আয় করা সংগীতভিত্তিক বায়োপিক। এটি ২০১৮ সালের কুইন ব্যান্ডকে নিয়ে নির্মিত ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলারের বৈশ্বিক আয় ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে এটি বাস্তব কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে নির্মিত সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র, যা ২০২৩ সালের ‘ওপেনহাইমার’—এর ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের আয়কেও অতিক্রম করেছে। বিশ্বজুড়ে টিকিট বিক্রি থেকে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে ইতিহাস গড়েছে ‘মাইকেল’। এটি বিশ্বের প্রথম বায়োপিক, যা এ কাক্সিক্ষত বক্স অফিস মাইলফলক অতিক্রম করল। খবর ভ্যারাইটি।
মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীভিত্তিক সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বাজারে ৬২ কোটি ৯৮ লাখ এবং উত্তর আমেরিকায় ৩৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার আয় করেছে। ফলে মোট বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলারের বেশি। নির্মাণ—পরবর্তী নানা বিতর্ক এবং সমালোচনার মুখেও ‘মাইকেল’ গত এপ্রিলে মুক্তির পর থেকেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছে। সিনেমাটি উত্তর আমেরিকায় উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ৯ কোটি ৭০ লাখ এবং বিশ্বব্যাপী ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালের সংগীতভিত্তিক বায়োপিক ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’—এর ৬ কোটি ডলারের উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের রেকর্ড ভেঙে দেয়। দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং অনেকের একাধিকবার দেখার কারণে চলতি গ্রীষ্মে ‘মাইকেল’ বিশ্বব্যাপী শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
এ সাফল্যের ফলে ‘মাইকেল’ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আয় করা সংগীতভিত্তিক বায়োপিক। এটি ২০১৮ সালের কুইন ব্যান্ডকে নিয়ে নির্মিত ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলারের বৈশ্বিক আয় ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে এটি বাস্তব কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে নির্মিত সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র, যা ২০২৩ সালের ‘ওপেনহাইমার’—এর ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের আয়কেও অতিক্রম করেছে।
এছাড়া এটি লায়ন্সগেট স্টুডিওর ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র এবং স্টুডিওটির প্রথম বিলিয়ন ডলার আয়কারী সিনেমা। এর আগে লায়ন্সগেটের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা ছিল ২০১৩ সালের ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার’ (৮৬ কোটি ৫০ লাখ) এবং ২০১২ সালের ‘দ্য টোয়াইলাইট সাগা: ব্রেকিং ডন— পার্ট ২’ (৮৫ কোটি ডলার)।
লায়ন্সগেট মোশন পিকচার গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডাম ফোগেলসন বলেন, ‘শুরু থেকেই দর্শকরা এই সিনেমাটিকে উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছেন এবং এটিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ঘটনায় পরিণত করেছেন। তাদের এ ভালোবাসা সর্বকালের অন্যতম সেরা রেকর্ডিং শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের প্রতি মানুষের স্থায়ী আকর্ষণের প্রমাণ। একই সঙ্গে এটি বড় পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার শক্তি ও জনপ্রিয়তাও তুলে ধরে।’
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ইউনিভার্সালের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ ছাড়া আর মাত্র একটি সিনেমাই বিলিয়ন ডলারের ঘর স্পর্শ করল। ডিজনির ‘টয় স্টোরি ৫’ এখন পর্যন্ত ৮৭ কোটি ৯১ লাখ ডলার আয় করেছে এবং শিগগিরই এটি এ বছরের তৃতীয় ১ বিলিয়ন ডলার আয়কারী সিনেমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অঁতোয়ান ফুকুয়া পরিচালিত ‘মাইকেল’—এ দেখানো হয়েছে মাইকেল জ্যাকসনের ‘জ্যাকসন ফাইভ’—এর সদস্য হিসেবে শুরুর পথচলা থেকে ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার গল্প। সিনেমাটিতে মাইকেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। এটি তার অভিনয়ে অভিষেক। এছাড়া কোলম্যান ডোমিঙ্গো ও নিয়া লং অভিনয় করেছেন যথাক্রমে জো জ্যাকসন ও ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে।
লায়ন্সগেট এরই মধ্যে মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে অন্তত একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
