ঐক্য পরিষদের দাবি || হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ফাউন্ডেশন চাই
নিউইয়র্কঃ গত ৮ জুলাই, বুধবার জ্যামাইকা অ্যাভিনিউতে যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি রণবীর বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু গোপের সঞ্চালনায় সংগঠনের একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত, ড. জিতেন রায়, রূপকুমার ভৌমিক, রণবীর বড়ুয়া, তপন সেন, প্রদীপ মালাকার, রীনা সাহা, মতিলাল নাথ, ড. দিলীপ নাথ, পার্থ তালুকদার, সঞ্জিৎ ঘোষ, সুকান্ত দাস টুটুল, কিশোর শর্মা, মনীন্দ্র ভিক্ষু, নয়ন দেব, ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।
বক্তারা গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রপুরে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন অবতার শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তির কাজ কতিপয় কট্টরপন্থী ইসলামী সংগঠনের আপত্তি ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের হুমকির মুখে স্থগিত করতে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অবতার শ্রী রামচন্দ্রের ছবিকে অবমাননার ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ বিষয়ে সরকারের নির্লিপ্ততায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিভিন্ন বক্তা বলেন, যেসব ধর্মীয় কট্টরপন্থী সংগঠন রাম মূর্তি অপসারণের দাবি তুলেছে, তারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সহাবস্থান, তাঁদের সমমর্যাদা ও ধর্ম পালনের অধিকার, মানবপ্রণীত আইন, গণতন্ত্র, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকার, ফটোগ্রাফি, সিনেমা, থিয়েটার, শিল্পকলা ও সঙ্গীতচর্চাসহ আধুনিক সভ্যতার বহু মৌলিক মূল্যবোধই স্বীকার করে না। কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম—সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো, তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হয় না; বাংলাদেশও সে পথে চলা উচিত নয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এখনও আফগানিস্তানের মতো কোনো ইসলামী আমিরাত নয়; এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে সকল নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের সমান অধিকার থাকা উচিত।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিজেদের একটি উদার গণতান্ত্রিক দল বলে দাবি করে। যদি সেই দাবি সত্য হয়, তবে বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের আদলে নয়, বরং ইন্দোনেশিয়ার মডেলে গড়ে তোলা উচিত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ডি.সি.—তে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসের সামনেও দেবী সরস্বতীর একটি বৃহৎ ও নান্দনিক ভাস্কর্য স্থাপিত রয়েছে।
রাম মূর্তি নির্মাণের অর্থায়নের উৎস কী, বিদেশি অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের যে দাবি তোলা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে বক্তারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, যদি একই ধরনের তদন্ত দেশের মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে এমন দাবি বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের তদন্তের নজির কখনও শোনা যায়নি। সে ক্ষেত্রে হিন্দুদের ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রেই কেন হঠাৎ এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে—তা বোধগম্য নয়।
কয়েকজন বক্তা বলেন, ‘বৈষম্যহীনতা’, ‘ন্যায্যতা’ ও ‘সমতা’ নিশ্চিত করতে শুধু গাইবান্ধার রামচন্দ্রপুরে নির্মাণাধীন রাম মূর্তির কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করাই সরকারের দায়িত্ব নয়; বরং দেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে অন্তত একটি করে সুদৃশ্য রাম এবং/অথবা কৃষ্ণ মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ অবিলম্বে গ্রহণ করা উচিত, ঠিক যেভাবে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।
এ ছাড়াও বক্তারা ইসলামী ফাউন্ডেশনের আদলে পূর্ণাঙ্গ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান। সভার পক্ষ থেকে নির্মাণাধীন শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তির প্রধান উদ্যোক্তা ও পৃষ্ঠপোষক শ্রী হরিদাস তরনি—দাস এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
