বিরূপ পরিস্থিতি সত্ত্বেও রবীন্দ্র একাডেমির আয়োজন// পঞ্চকবির গান নিয়ে দীর্ঘ অনুষ্ঠান

বাঙালী প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ যখন নানাভাবেই বঞ্চনার শিকার তখন রবীন্দ্র একাডেমি অব ইউএসএ প্রতিবছর কেবল রবীন্দ্রনাথকেই একদিন দিনভর উদযাপন করছে না, তারা পঞ্চকবিকেও তুলে ধরছে, তাদের স্বর্ণখনি সামনে এনে দেখিয়ে দিচ্ছে। আর এই আয়োজনে শুধু স্মৃতিকাতর প্রবাসীরা অংশ নিচ্ছেন না, সেখানে যোগ দিয়ে মনপ্রাণ উজাড় করে পরিবেশনায় সম্পৃক্ত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের শিশুকিশোরকিশোরীরাও। রবীন্দ্র একাডেমি ইউএসএ বছরের আয়োজনের নাম ছিলপ্রবাসে মনমাঝে পঞ্চকবি গত রবিবার দুপুর থেকে একটানা মধ্যরাত পর্যন্ত এই আয়োজন চলে উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে। একক, দ্বৈত, সমবেত কণ্ঠে গান, নাচসহ প্রশ্নোত্তর আবৃত্তি এবং এওয়ার্ড প্রদান অন্যান্য আয়োজন চলতে থাকে একের পর এক। কিন্তু সবকিছুই পঞ্চকবির। রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে শিরোধার্য করে অপর তিন গীতিকবি অতুলপ্রসাদ সেনগুপ্ত, রজনীকান্ত সেন এবং ডি.এল. রায় এর বাইরে একটি পরিবেশনাও ছিল না। শেষে প্রবাসের বিশিষ্ট জন, গীতিকার, নাট্যকার কবি জীবন চৌধুরীকে দেয়া হয় আজীবন সম্মাননা।

প্রবাসে মনমাঝে পঞ্চকবিশিরোনামের অনুষ্ঠানটির সূচনা হয় সংগঠনের সভাপতি, সংগীত শিক্ষক শিল্পী ডা. রুমা চৌধুরীর রবীন্দ্রনাথ কাজী নজরুলের তিনটি গানআমার মাথা নত করে’, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়এবংঅঞ্জলি লহ মোর সংগীতে সমন্বয়ে কোলাজ সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর কিশোর শৌভিত চৌধুরী এক ঝাঁক ক্ষুদে শিল্পী পরিবেশন করেযৌবনের দূতশিরোনামে সংগীত পর্ব।

সবকিছু ছাপিয়ে পাঁচ কবির পাঁচটি গান নিয়ে সমবেত কণ্ঠের পর্বটি হয়ে ওঠে গান নির্বাচন গায়কীতে অনবদ্য। এই পর্বের গানগুলো ছিল নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জ ছায়ায় (রবীন্দ্রনাথ), আমরা এমনি এসে ভেসে যাই (ডি.এল. রায়), ওরা চাহিতে জানে না দয়াময় (রজনীকান্ত), প্রকৃতির ঘোমটা খোল লো (অতুল প্রসাদ) এবং মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম (নজরুল ইসলাম)

৩৭ জন শিল্পী এই সমবেত আয়োজনে অংশ নেন . সবিতা দাসের নেতৃত্বে। তার সাথে আরো ছিলেন রুনা রায় এবং কিশোর শিল্পী শৌভিত চৌধুরী। তবলায় একটানা সংগত করেন গুণী তবলাবাদক তপন মোদক, অক্টোপ্যাডে রাকেশ ব্যানার্জি, মন্দিরায় সুশীল সাহা এবং কীবোর্ডে মাসুদুর রহমান।

অনুষ্ঠানের মধ্য পর্যায়ে প্রধান অতিথি আরটিভি চেয়ারম্যান আশিক রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। আশিক রহমান সহ . নাঈমা খান, ডা. দিলীপ নাথ কাজি জহিরুল ইসলাম প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করার সময় শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে ওঠেনআগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণেগানটি। সময় রবীন্দ্র একাডেমির সভাপতি ডা. রুমা চৌধুরী দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, আমরা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই এক। আমাদের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই।

অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এম.এস. আলম, মূলধারার রাজনীতিক নাভার সভাপতি ডা. দীলিপ নাথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মোল্লা। তারা সকলেই পঞ্চকবিকে নিয়ে এই দুঃসময়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রবীন্দ্র একাডেমিকে ধন্যবাদ জানান। তাঁদেরও গুচ্ছ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

শুরুর দিকে শিশু সম্মিলিত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথেরআমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকেআবৃত্তি করে। আরো ছিল রনজিত রায়ের পরিচালনায় শিশুদের প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ পঞ্চকবির পরিচিতি তুলে ধরার একটি চমৎকার পর্ব।

পুরো অনুষ্ঠানে যারা অংশ নেন তাদের অন্যতম হল বীথি রায়, পারিজাত দাস, খন্দকার আজিজুন নেসা, মো. নজরুল ইসলাম, সুপ্রিয়া চৌধুরী, দীপক দাস, রত্না দাস, পপি পাল, শম্পা দত্ত, আয়েশা খান, ইতি মন্ডল, সুশীল সিনহা, ইন্দ্রানি ভট্টাচার্য, আনুস্কা সেনগুপ্ত, প্রতিমা মজুমদার, শীলা চন্দ্র, তমালিকা নন্দী, শাকিলা রুমা, বাবলা আহমেদ, মিলন দাস, কণিকা দাস, শম্পা রায়, পুন্যা দে, ঋতুজা ব্যানার্জি, শিখা ঠাকুর, প্রদীপ কুন্ডু, শামসুন্নাহার লিলি, চন্দন চৌধুরী, ডা. উৎপল চৌধুরী, ডা. শংকর পরিয়াল, বীরেন সাহা, অরুণা সাহা।

সবশেষে ডা. রুমা চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পর সমবেত কণ্ঠেধনধান্য পুষ্প ভরাগানটি পরিবেশন করা হয়।

Related Posts