বলিউডঃ শাহরুখ—সালমান—অক্ষয়দের পর তৈরি হয়নি নতুন সুপারস্টার প্রজন্ম
ভারতের দর্শক—জরিপ ও মিডিয়া বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওরাম্যাক্স মিডিয়া সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ‘স্টারস ইনডিয়া লাভস’ শীর্ষক প্রতিবেদন। এতে বলিউডের এমন একটি সমস্যার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে, যা আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় তারকারা ক্রমেই বয়স্ক হচ্ছেন, কিন্তু তাদের জায়গা নেয়ার মতো নতুন প্রজন্মের সুপারস্টার এখনো গড়ে ওঠেনি। খবর বলিউড হাঙ্গামা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে হিন্দি চলচ্চিত্রের শীর্ষ পাঁচ পুরুষ তারকার গড় বয়স ছিল ৪৭ বছর। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৫৪ বছরে পৌঁছেছে। উদ্বেগের বিষয় শুধু বয়স বৃদ্ধি নয়, বরং শীর্ষস্থানীয় তারকাদের তালিকায় নতুন মুখের অভাব।
ওরাম্যাক্সের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের শীর্ষ পাঁচ পুরুষ হিন্দি চলচ্চিত্র তারকা হলেন শাহরুখ খান, সালমান খান, অক্ষয় কুমার, হৃতিক রোশন ও রণবীর কাপুর।
অন্যদিকে ২০১৯ সালের তালিকায় ছিলেন অক্ষয় কুমার, সালমান খান, রণবীর সিং, হৃতিক রোশন ও শাহরুখ খান। অর্থাৎ ছয় বছর ব্যবধানে তালিকার পাঁচজনের মধ্যে চারজনই একই রয়েছেন। সহজভাবে বললে, বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় পুরুষ তারকাদের চেহারা গত কয়েক বছরে প্রায় অপরিবর্তিত থেকেছে।
ওরাম্যাক্সের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি শিল্পটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, হিন্দি সিনেমার বক্স অফিস আয়ের ৫৭ শতাংশই আসে ১৫—৩০ বছর বয়সী দর্শকদের কাছ থেকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি তারকাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে থাকতে পারে না। বর্তমানের শীর্ষ চার তারকা আরো বয়সী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যম্ভাবীভাবে একটি শূন্যতা তৈরি হবে। আর সেই সময়ের মধ্যে যদি পরবর্তী সারির তারকাদের গড়ে তোলা না যায়, তাহলে পুরো শিল্পকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে।
ওরাম্যাক্স আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। বর্তমানে রোমান্স, রোমান্টিক কমেডি বা রমকম এবং তরুণদের বেড়ে ওঠার গল্পভিত্তিক চলচ্চিত্রকে দুর্বল ঘরানা হিসেবে দেখা হয়। তবে তাদের মতে, সমস্যাটি আসলে ঘরানার জনপ্রিয়তায় নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমস্যা হলো এমন তরুণ শীর্ষ তারকার অভাব, যারা এসব ঘরানাকে আবারো আকর্ষণীয় ও বড় ইভেন্টধর্মী চলচ্চিত্রে পরিণত করতে পারেন। প্রতিটি চলচ্চিত্র শিল্পেই শীর্ষে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক তারকার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে তাদের নিচে ধীরে ধীরে উঠে আসা তরুণ তারকাদেরও প্রয়োজন। এভাবেই একটি শিল্প প্রাণবন্ত, ভবিষ্যতমুখী এবং সৃজনশীলভাবে বৈচিত্র্যময় থাকে।
প্রতিবেদনের শেষ দিকে ওরাম্যাক্স স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, এখন শুধু জনসংযোগ (পিআর) বা স্বল্পমেয়াদি প্রচারণা যথেষ্ট নয়। নতুন তারকা তৈরির জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ—সঠিক চিত্রনাট্য, শক্তিশালী পর্দা—ইমেজ, উপযুক্ত ঘরানা নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। অন্যথায় হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্প নিজেই নিজের ভবিষ্যৎকে দুর্বল করে ফেলতে পারে।
ওরাম্যাক্স মিডিয়া ভারতের শীর্ষ মিডিয়া পরামর্শক ও দর্শক—জরিপ প্রতিষ্ঠান। তারা চলচ্চিত্র, ওটিটি, টেলিভিশন এবং বিনোদন শিল্পের দর্শক পছন্দ, জনপ্রিয়তা, ব্র্যান্ড মূল্য ও বাজার প্রবণতা নিয়ে নিয়মিত জরিপ ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। তাদের ‘স্টারস ইনডিয়া লাভস’ প্রতিবেদনটি ভারতীয় তারকাদের জনপ্রিয়তা পরিমাপের অন্যতম আলোচিত সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
