বিদিতা রহমানের তায়েকোয়ান্দোতে ফাস্টর্ ডিগ্রি ব্লাক বেল্ট অর্জন
বিশেষ প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বিদিতা রহমান প্রধান কবি। বাংলা ও ইংরেজিতে কবিতা লেখেন। বইও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি প্রশংসিতও হয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি পিএইচডিও করছেন। তবে এই সবকিছুর বাইরে বিদিতা রহমানের আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ে। তিনি সম্প্রতি ইউনাইটেড তায়েকোয়ান্দো এবং ওয়ার্ল্ড তায়েকোয়ান্দো ফেডারেশন থেকে ব্লাক বেল্ট ফাস্টর্ ডিগ্রি অর্জন করলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে বিদিতা রহমানই প্রথম এই এওয়ার্ড, ডিগ্রি ও সম্মাননা অর্জন করলেন।
জানা গেছে, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক শৃঙ্খলা গঠন এবং আত্মরক্ষার কৌশল শেখার মতো নানাবিধ উপকারের কারণে বিদিতা মার্শাল আর্টকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ তাঁকে পেশী গঠনে, চর্বি কমাতে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করে। এটি শরীরের নমনীয়তা, অঙ্গ—প্রত্যঙ্গের মধ্যে সমন্বয় এবং ভারসাম্য বৃদ্ধি করে, যা আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমায়। শারীরিক পরিশ্রম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক একাগ্রতা এক ধরণের সক্রিয় ধ্যানের মতো কাজ করে—যা তাঁর মনকে প্রশান্ত রাখে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করে।
বিদিতা রহমানের কথায়, “আমি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ; তিনিই এই সবকিছু সম্ভব করেছেন। তাঁর ইচ্ছা ও অনুমতি ছাড়া হয়তো আমি এই যাত্রাপথ পাড়ি দিতে পারতাম না। আমাকে ব্যথা, আঘাত, উদ্বেগ, মানসিক চাপ, অপমান, ভয়, অস্বস্তি এবং হতাশার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি আমি অর্জন করেছি শৃঙ্খলা, দৃঢ় সংকল্প, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতা, সাহস, আত্মবিশ্বাস, ভয় জয় করার শক্তি, নিষ্ঠা, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং কখন আক্রমণ করতে হবে আর কখন আত্মরক্ষা করতে হবে। সেই বিচক্ষণতা। আমি এখনও শিখছি, নিজেকে আরও ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমার বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করছি। আমি শিখেছি কীভাবে শরীর বাধা ও মানসিক আঘাত কাটিয়ে সেরে উঠতে পারে এবং একজন প্রকৃত যোদ্ধার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, কখনও কখনও নারীদের বাইরের কোনো অনুপ্রেরণার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেদেরই উঠে দাঁড়াতে হয়। কেউ আপনাকে বাঁচাতে বা রক্ষা করতে আসবে না, তাই বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের পায়ে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। উৎসাহ বা সমর্থনের জন্য অপেক্ষা করবেন না। আপনি যদি কিছু চান কিন্তু পর্যাপ্ত সমর্থন না পান, তবে হয়তো সফল নাও হতে পারেন, কারণ অনেক সময় অর্জনগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়। হয়তো কেউ আপনাকে অভিনন্দন জানাবে না, আপনাকে গুরুত্ব দেবে না, এমনকি নিরুৎসাহিতও করতে পারে; কিন্তু নিজের যাত্রাপথ এবং আপনার কাছে কী গুরুত্বপূর্ণ—তা আপনিই ভালো জানেন। মানুষ হয়তো আপনার অগোচরে নানা কথা বলবে, কিন্তু আপনার লক্ষ্যগুলোই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার প্রশিক্ষকদের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞ; তাঁদের প্রচেষ্টা ও ধৈর্য আমার কাছে অমূল্য। একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রশ্ন করি—প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করতে আমি কী করতে পারি, যাতে একদিন আমার প্রতিষ্ঠান আমার জন্য গর্ববোধ করে।”
উল্লেখ্য, মার্শাল আর্ট সব বয়সের মানুষের জন্যই উপকারী; এটি ভারসাম্য, নিয়ন্ত্রণ, নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিদের জন্যও এর পরামর্শ দেওয়া হয়। মার্শাল আর্ট শারীরিক ও মানসিক—উভয় ধরনের সুস্থতা নিশ্চিত করে।
বিদিতা রহমানের এ পর্যন্ত ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তার গবেষণা নিবন্ধের সংখ্যা ১৩। তার পিতা স্বনামধন্য আলোকচিত্র সাংবাদিক প্রয়াত লুৎফর রহমান বেনু এবং স্বামী নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাম ভুঁইয়া।
