উৎসব গ্রুপের উদ্যোগে হয়ে গেল || জ্যামাইকায় বাংলাদেশ মেলা

নিউইয়র্কঃ নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় শুরু হচ্ছে গ্রীষ্মকাল অর্থাৎ সামার। ইতিমধ্যেই বার্ষিক বনভোজন আর পথমেলা সহ নানা আয়োজন নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবছরও উৎবমুখর হয়ে উঠছে বাংলাদেশী কমিউনিটি। আর কয়েকদিন পড়েই আসছে স্কুলগুলোতে সামার ভ্যাকেশন। সবমিলিয়ে কমিউনিটিতে প্রস্তুতি চলছেসামার ভ্যাকেশন’—এর নানা আয়োজন। আর এসব আয়োজনের শুরুতেই গত জুন শনিবার বাংলাদেশী অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকার আরচি স্প্রিগনার পার্কে আয়োজিত হয়বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল এতে সর্বস্তরের হাজারো বাংলাদেশী সহ বিপুল সংখ্যক বিদেশীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে আরচি স্প্রিগনার পার্কের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। বৈশাখী মেলার আদলে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালে নামে মানুষের ঢল। চমৎকার আবহাওয়ায় দিনভর নানা আয়োজনে একটি আনন্দময় দিন কাটালেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল’—এর আয়োজক সংগঠন ছিলো পালস। 

বিশাল মাঠের একপাশে ছিল বিশাল মূল মঞ্চ, আর বাকি তিনপাশ জুড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো ছিল দেশীবিদেশী ৭০টিরও বেশি স্টল। পোশাক, গহনা, খাবার, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী, সব মিলিয়ে ছিল প্রাণবন্ত এক মেলার পরিবেশ। দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করেছেন, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, আর উপভোগ করেছেন ফেস্টিভ্যাল। সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানের কর্মকান্ড চলার কথা থাকলেও মঞ্চে মূল অনুষ্ঠান চলে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ছয় ঘণ্টা। ব্যান্ড সংগীত, ফ্যাশন ওয়াক এবং দেশ প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় দর্শকরা ছিলেন মুগ্ধ। মঞ্চে গান পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী কামরুজ্জামান বকুল, সুজন আরিফ, তৃনিয়া হাসান, রেশমী মির্জা, নাজু আখন্দ, প্রতীক হাসান, পারভেজ সাজ্জাদ এবং ব্যান্ড ইওগ। এছাড়াও ডিজাইনার রোজিনা আহমেদ রুনির পরিকল্পনায় মডেলরা অংশ নেয় ফ্যাশন ওয়াকে। আরো ছিলো ্যাফেল ড্র। 

বিকেল ৪টার দিকে ফিতা কেটে ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন যৌথভাবে উৎসব গ্রুপের প্রধান রায়হান জামান এবং আশা গ্রুপের প্রধান আকাশ রহমান। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই দুপুর থেকে দর্শকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠতে শুরু করে আরচি স্প্রিগনার পার্কের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। বিকেলে সূর্যের তাপ কমার সাথে সাথে বিশাল মাঠজুড়ে নেমে আসে এক অন্যরকম উৎসবের আবহ। চারদিকে সবুজ ঘাসের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। রং বেরংএর বাহারী পোশাকে প্রবাসী বাংলাদেশীরা কোথাও পরিবার নিয়ে বসেছেন কেউ, কোথাও বন্ধুদের আড্ডা, কোথাও আবার শিশুরা ছুটে বেড়াচ্ছে মাঠজুড়ে। দূর থেকে ভেসে আসছে গানের সুর, হাতে ঝালমুড়ি কিংবা ধেঁায়া ওঠা চায়ের কাপ। দৃশ্যত: আরচি স্প্রিগনার পার্ক হয়ে উঠেছিলো এক খন্ড বাংলাদেশ। ্যাফেল ড্রতে উৎসব গ্রুপ প্রদত্তঢাকানিউইয়র্কঢাকাএয়ার টিকেট পুরস্কারটি পেয়েছে তানিয়া রহমান।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লিরয় কমরি, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন সি ল্যু, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিউয়োম্যান অ্যালিসিয়া হাইন্ডম্যান, নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোমা সাঈদ, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডারএটলার্জ এটর্নি মঈন চৌধুরী, কমিউনিটি ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ক্লাবের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী, মেয়র অফিসের ডেপুটি চিফ বিজনেস ডাইভারসিটি অফিসার এবং সিনিয়র অ্যাডভাইজার দিলীপ চৌহানসহ অনেকেই দিনের বিভিন্ন সময়ে ফেস্টিভ্যালে এসে কিছুসময় অতিবাহত করেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন সাদিয়া খন্দকার। 

উল্লেখ্য, এই ফেস্টিভ্যাল সফলের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন পালসএর কর্ণধার সৈয়দ হাসান আল বান্না। টাইটেল স্পন্সর ছিলো উৎসব গ্রুপ, হিলসাইড হোন্ডা এবং সিলেক্ট ডিলার সার্ভিস। পাওয়ার্ড বাই ছিল আশা হোম কেয়ার এবং গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার।   

Related Posts