নিউইয়র্কে হয়ে গেল তৃতীয় বাংলাদেশ প্যারেড
নিউইয়র্ক (ইউএনএ)ঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ডে প্যারেড। রবিবার ১৭ এপ্রিল দুপুরে এই প্যারেডের আয়োজন করা হয়। প্যারেডে সিটি ও স্টেটের অর্ধ ডজনাধিক জনপ্রতিনিধি সহ হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। ফলে জ্যাকসন হাইটস হয়ে ওঠে এক খন্ড বাংলাদেশ। হাতে হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, মুখে মুখে দেশের গান, ঢাক—ঢোলের বাজনা আর বাঙালি শিল্প—সংস্কৃতির প্রতিকৃতি ধারণ করে বাংলাদেশকেই তুলে ধরা হয় বর্ণাঢ্য প্যারেডে। অংশ নেন জনপ্রিয় চিত্র নায়িকা মৌসুমী ও জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী শুভ্রদেব সহ দেশের জনপ্রিয় তারকারা। আরো ছিলো স্প্যানিশ কমিউনিটির শিল্পীদের নৃত্য। বিপুল সংখ্যক দেশী—বিদেশী জনতা রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে প্যারেড উপভোগ করেন। তবে পুরো প্যারেড অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলার অভাব ছিলো। এছাড়াও কোন কোন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিলেও বাংলাদেশ সোসাইটির অনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ না থাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে কমিউনিটিতে।
প্যারেডে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ইউএস কংগ্রেসউয়োম্যান গ্রেস মেং ও টম সোয়াজি, স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান স্টেভেন রাগা, অ্যাসেম্বলিউয়োম্যান জেসিকা গঞ্জালেস রোহাস, নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণান সহ আরো অনেক জনপ্রতিনিধি। সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্যারেডের কর্মসূচী থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্যারেড শুরুর স্থানে এসে সমবেত হতে থাকেন। গ্রীষ্মকালের গরম হাওয়া উপেক্ষা করে সর্বস্তরের প্রবাসীরা রং বেরং—এর পোশাক পরে, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানার নিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে পৌছেন। বেলা ১১টার দিকে প্যারেড শুরুর স্থল ভরে যায়। এরই মধ্যে সিটি ও স্টেট প্রশাসনের জনপ্রতিনিধিরা এসে সমবেত হন এবং ট্রাকের চলমান মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। প্যারেডের চীফ গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এম আজিজ ও ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি এম এম শাহীন।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে প্যারেডের কর্মকান্ড শুরু হয়। এদিকে প্যারেড শুরুর প্রাক্কালে আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও প্যারেড কমিটির কনভেনর গিয়াস আহমেদ, চেয়ারম্যান এটনীর্ মঈন চৌধুরী, গ্র্যান্ড মার্শাল লায়ন শাহ নেওয়াজ সহ অন্যান্য মার্শাল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াদুদ ভুঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম প্যারেড আয়োজন কমিটির অন্যতম ফখরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, প্রবীণ প্রবাসী নাসির খান পল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ সভাপতি ওয়াসী চৌধুরী, সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসাসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সরকার, পৃষ্ঠপোষক ডা. বর্ণালী হাসান, সারাহ কেয়ার ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও ডা. শাহজাদী পারভীন সারাহ, অল কাউন্টি হেলথ কেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিফা ভুঁইয়া, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিএ)—এর সাবেক সভাপতি আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম ও জাকারিয়া মাসুদ জিকো, ঢাকা জিলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদো ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আযম, মূলধারার রাজনীতিক ড. দীলিপ নাথ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশী আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব ডিষ্ট্রিক্ট ২০—আর টু এর সভাপতি জেএফএম রাসেল প্রমুখ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এই পর্ব পরিচালনা করেন প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান। সহযোগিতায় ছিলেন প্যারেড কমিটির চীফ ইভেন্ট কো—অর্ডিনেটর এফইএমডি রকি ও উপস্থাপিকা সোনিয়া সিরাজ।
বাংলাদেশের বিশালাকার জাতীয় পতাকা সামনে নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের চৌকষ বাদ্যযন্ত্রী দলের তালে তালে প্যারেডটি শুরু হয়। এরপর সিটির বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশী—আমেরিকানদের বিভিন্ন সংগঠন সহ বাংলাদেশী সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে একে একে সহ¯্রাধিক বাংলাদেশী ও আমেরিকানরা প্যারেডে অংশ নেন। এছাড়াও জনপ্রিয় চিত্র নায়িকা মৌসুমী ও জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী শুভ্র দেব সহ বাংলাদেশের অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, সজল, অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান ও নওরিন সহ দেশ ও প্রবাসের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক জগতের একাধিক তারকা প্যারেডে অংশ নিলেও প্যারেড কমিটি ঘোষিত অনেক তারকা প্যারেডে ছিলেন অনুপস্থিত। প্যারেডটি জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউ ও ৬৯ স্ট্রিট সংলগ্ন পার্কিং লট থেকে শুরু করে ৩৭ এভিনিউ ধরে এগিয়ে ৮৭ স্ট্রিটে গিয়ে শেষ হয়। এরপর দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গীত আর নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্যারেডের সমাপ্তি ঘটে।
নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগের ব্যান্ড দলের তালে তালে এনওয়াইপিডি, নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) ইউএস আর্মিসহ প্যারেডে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিলো বাংলাদেশী—আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা), ৪০তম ফোবানা কনভেনশন—২০২৬, সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফার্মিংস আর্টস (বিপা), বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস (বাফা), প্রবাসী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন কমিটি, প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ, গোল্ড—স্যান্ডস গ্রুপ, বাংলাদেশী—আমেরিকান বোলডেস্ট এসোসিয়েশন (বিএবিএ), গ্রেটার খুলনা সোসাইটি অব ইউএসএ, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর এশোসিয়েশন, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ, মনি হোম কেয়ার, দ্যা ভয়েস অব ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট, হেলথ ফাস্টর্, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, ফাস্টর্ এইড হোমকেয়ার, নবাবগঞ্জ উপজেলা এসোসিয়েশন অব ইউএসএ, বরিশাল সিটি ও সদর সোসাইটি ইউএসএ, বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ, বাংলাদেশী—আমেরিকান পোস্টাল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন ইউএসএ, পাবনা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, দোহার উপজেলা সমিতি ইউএসএ, আমেরিকান বাংলাদেশী কমিউনিটি প্রভৃতি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান হাইরাম মানসেরাত ও নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট—৩০ এর আগামী প্রাইমারী নির্বাচনে প্রার্থী বাংলাদেশী—আমেরিকান শামসুল হকের সমর্থকরাও প্যারেডে অংশ নেন।
এছাড়াও হেলথ ফাস্টর্, অল কাউন্টি হেলথ কেয়ার সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্যারেড শুরুর স্থানে স্টল বসায়। এসব স্টল থেকে তাদের প্রচারণা ছাড়াও ফ্রি পানি সরবরাহ করা হয়। বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট এজেন্ট সারোয়ার খান বাবু দর্শক এবং প্যারেডে অংশগ্রহণকারীদের আংগুর বিতরণ করেন।
প্যারেডে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।
