সংবাদ ভাষ্য: কবি নজরুলের পাশে কবর || মুহাম্মদ ইউনূসকে জবাব দিতে হবে

বাঙালী প্রতিবেদনঃ ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনকে সামনে রেখে সাপ্তাহিক বাঙালীর যাত্রা শুরু হয়। বাঙালি জাতি হিসাবে নজরুলের কাছে আমাদের সাংস্কৃতিক এবং সাহিত্যিক ঋণ অপরিসীম। তার মত এত বিচিত্র প্রতিভা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তার প্রতি সাপ্তাহিক বাঙালীর ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা অন্যরকম এবং অতিশয় কৃতজ্ঞতার।

নজরুলের সাম্য চিন্তা, অসাম্প্রদায়িক প্রকৃতি, সকল ধর্ম শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি, নারীপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তাকে অন্য এক মানবিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। পৃথিবী জুড়েই এই স্তরের মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তিনি যেভাবে আমাদের ভূখন্ডে জগদ্দল পাথরের মত প্রায় দুই শতাব্দীকাল জেঁকে বসে থাকা উপনিবেশবাদী বৃটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে কলম উদ্যত করেছিলেন, তেমন আর কেউ করেননি। তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও তিনি সেই কারান্তরালে বসেই লিখেছেনকারার লৌহ কপাট, ভেঙে সব কররে লোপাট অসীম সাহসী এই মানুষটি বেঁচে থাকাকালে মোকাবেলা করতে হয়েছে অজ¯্র বাক্যবাণ। আর বাক বুদ্ধি রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরও একদিকে চরম অর্থাভাব অন্যদিকে বিতর্ক চলতে থাকে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। সরকারি বাড়ি দেয়া হয়, যাবতীয় দেখভালসহ সরকার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

১৯৭৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করলে তার কবিতার পংক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি মসজিদের পাশে সমাধীস্থ করা হয়। এই সমাধীস্থানটি দ্ব্যর্থবোধক। নজরুল চেয়েছিলেন মসজিদের পাশে যেন তাকে কবর দেয়া হয়, যাতে তিনি মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পান, সেই সাথে নামাজ পড়তে যাওয়া নামাজীদের পায়ের ধ্বনি যেন শুনতে পান কবরের ভেতর থেকে। আর অপর অর্থটি হলো, বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি কোটি শব্দের মিউজিয়ম। নজরুল শব্দ নিয়েই খেলা করেছেন সফলভাবে। বিশ্ববিদ্যালয় মানুষদের মানুষ মানবিক হতে শিক্ষা দেয়। নজরুলও তার কবিতায় মানুষের জয়গান আর মাহাত্ম গেয়েছেন।

কিন্তু গত বছর এমন একজনকে ঐখানে দাফন করা হলো, যার সামান্যতম যোগ্যতা নেই তার পাশে শোয়ার। কেবল রাজনীতির দুষ্টচক্রের মনরক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুরো পৃথিবীতেই নজরুলের মত প্রতিভা অতি অল্প সংখ্যক। ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান এই অসাধারণ সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসিত হন। কিন্তু এত বছর পর বাঙালিরা অন্য একজনকে সম্মানিত করার হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাঙালিরা অসহায়ের মত দেখেছে মুহম্মদ ইউনুস তার অজ¯্র ভুল সিদ্ধান্তের সাথে এই সিদ্ধান্তটি নিলেন। আর পুরো বাংলাদেশের মানুষ কোনো প্রতিবাদ না করে তা মেনে নিয়েছে। কেউ একজন দাঁড়িয়ে বলল না, এটা ভুল সিদ্ধান্ত। 

নিশ্চয় নজরুল নজরুলের জায়গায় থাকবেন। কিন্তু যারা এই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। এটা সময়ের বিচার।

প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা তাঁর জন্মদিনে।

Related Posts