মৃত্যুর সংখ্যা ৪৯৯ || হামে শিশুমৃত্যু কেন থামানো যাচ্ছে না

ডয়চে ভেলে প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশে হামে শিশুমৃত্যু থামছে না। জনস্বাস্থ্যবিদেরা এর জন্য স্বাস্থ্যগত কিছু কারণের কথা বলছেন। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনিসেফ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারকেও দায়ী করছেন। তবে সেই সরকারের কর্মকর্তারা ডয়চে ভেলের কাছে সেসব অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।

১৫ মার্চ থেকে ২২ মে পর্যন্ত বাংলাদেশে হাম হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে হামের সংক্রমণ আবার ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে সেসব দেশে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ কেন এসব মৃত্যু ঠেকাতে পারছে না

যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বৃহস্পতিবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘শিশু মৃত্যু ঠেকাতে সরকার যা করণীয় তার সব ব্যবস্থাই করছে।

২০২৪ ২০২৫ সালে হামের কোনো টিকাই দেশে আসেনি। অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কেনার কোনো ব্যবস্থাই করেনি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন দেখলাম টিকা নেই, তখনই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ইউনিসেফের সঙ্গে আলোচনা করলাম, তাদের টিকা আসতে এক মাস লাগবে। কিন্তু অত সময় আমাদের হাতে ছিল না। এডিবি গ্যাভি আমাদের সহযোগিতা করল। এডিবি দ্রুত টাকা ছাড় করল। আমরা গ্যাভির সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তাদের মজুদে কিছু টিকা ছিল, সেটা ধার হিসেবে এনেছি এবং দ্রুত টিকা কার্যক্রম শুরু করেছি। এরপর ইউনিসেফের টিকাও এসেছে। ফলে আমাদের কাছে এখন পর্যাপ্ত টিকা মজুদ আছে।

অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকা সংকটের বিষয়ে সতর্ক করতে পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি দেয়া হয়ছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। বুধবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি কথা বলেন। রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, কোনো মহামারি রাতারাতি ঘটে না। কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রকম পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিশেষ করে, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে (অন্তর্বর্তী সরকারের) মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। গত বছর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আমার মনে হয় না ধরনের সিদ্ধান্ত এর আগে কখনো নেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসার জন্য বারবার চাপ দিয়েছি। একইসঙ্গে আমি বলতে পারি, আমি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা এবং কর্মীদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বসেছি। আমি এবং আমার কর্মীরা বলেছি, আমরা চিন্তিত। আমার মুখ দেখে বুঝুন, আমি চিন্তিত যে, আপনারা টিকার সংকটে পড়তে যাচ্ছেন। এটা স্পষ্ট ছিল যে দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে।

গত দুই বছরে বাংলাদেশে কোনো টিকা সংকট ছিল কি না জানতে চাইলে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালেই টিকার সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আমরা আগেভাগেই সতর্ক করছিলাম এবং ক্রমাগত মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে তারা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

Related Posts